বিশেষ সংবাদ
রংপুরে আম রক্ষায় মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
রংপুরে গ্রামের পথে হাঁটলেই দেখা যায়, মুকুল ঝরে পড়ে গাছে দুলছে আমের গুটি। আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে লাভ-লোকসানের হিসাব কষা শুরু করেছেন। তবে এই হিসাব করতে গিয়ে গুটি আম রক্ষায় অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি একদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে আমের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে রংপুর অঞ্চলে ৬০৪৯ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে ৮২ হাজার ৬৬২ টন হাঁড়িভাঙ্গাসহ অন্যান্য আম উৎপাদিত হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর উৎপাদন আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
আম মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গাছের পরিচর্যা শুরু হয়। অধিক ফলনের আশায় আম সংগ্রহের পর গাছের গোড়ায় হরমোন ব্যবহার করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে ফলন ব্যাহত করতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বদরগঞ্জ উপজেলার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তা সাদ্দাম হোসাইন বলেন, বর্তমানে আমে এত বেশি কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে যে তা বেশিদিন সংরক্ষণ করা যায় না। বিশেষ করে হাঁড়িভাঙ্গা আমের আগের স্বাদও পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে বাইরের বাজারে চাহিদা কমে যাচ্ছে।
কৃষকরাও স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বলছেন। দীর্ঘদিন কীটনাশকের সংস্পর্শে থাকায় তারা নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।
ওই এলাকার কৃষক আবদুল বাতেন বলেন, ১৫ বছর ধরে আম চাষ করছি। নিয়মিত স্প্রে ও কীটনাশকের সংস্পর্শে থাকায় এখন এর প্রভাব শরীরে পড়ছে। মাঝে মাঝে চোখ ঝাপসা হয়ে আসে।
পদাগঞ্জের কৃষক ইয়াকুব আলী বলেন, আগে হাঁড়িভাঙ্গা আমে ২-৩ বার কীটনাশক স্প্রে করলেই চলত এবং স্বাদও ভালো ছিল। এখন ৩০-৩৫ বার স্প্রে করতে হয়। পাশাপাশি হরমোন ব্যবহার না করলে গাছে আম ধরে না। ফলে অতিরিক্ত স্প্রে ও হরমোন ব্যবহারে আগের মতো স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে না।
চিকিৎসকদের মতে, অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। এতে শ্বাসকষ্ট, চোখের সমস্যা, ত্বকের রোগসহ বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সুলতানা আশরাফী বলেন, অতিরিক্ত হরমোন ব্যবহারে বিষক্রিয়া হতে পারে যা কিডনি জটিলতা ও রক্তকণিকার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া কীটনাশক ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ব্যবহার না করলে শ্বাসনালিতে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে আমের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ কমে যাচ্ছে।
রংপুর আইডিয়াল হেলথ সিটির ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট ও ডায়েট কনসালটেন্ট ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, অতিরিক্ত কীটনাশক ফলের গুণাগুণ ও স্বাদ নষ্ট করে। ফলে প্রত্যাশিত পুষ্টিগুণও থাকে না।
তবে কৃষি বিভাগ বলছে, পরিমিত মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করলে কোনো সমস্যা হয় না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, মুকুল ফোটার আগেই ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হয়। এরপর গুটি মার্বেল আকার ধারণ করলে ৭ থেকে ১০ দিন পর আবার প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়। ফল পরিপক্ব হওয়ার ১৫ থেকে ২০ দিন আগে স্প্রে বন্ধ রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সারা বিশ্বেই হরমোন ব্যবহার করা হয় এবং পরিমিত ব্যবহারে এর কোনো ক্ষতি নেই।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর রংপুরের সহকারী বিপণন কর্মকর্তা শাহীন আহমেদ বলেন, এখনও বড় পরিসরে আম রপ্তানি সম্ভব হয়নি। তবে গত বছর কিছু প্রতিষ্ঠান উদ্যোগ নিয়েছিল। বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের মানদণ্ড, যেমন ‘ফিট ফর হিউম্যান কনজাম্পশন’ নিশ্চিত করতে হবে। অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে নেতিবাচক প্রভাব পড়লে রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে।
২ দিন আগে
বিয়ানীবাজারে সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে জনজীবন
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় প্রায় ২৫০ কিলোমিটার সড়ক ও গ্রামীণ সড়ক ভেঙেচুরে গেছে। এই অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। খানাখন্দ, পিচ-পাথর উঠে যাওয়া এবং ছোট-বড় গর্তে ভরা এসব সড়কে যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে, সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। এতে যাতায়াতে সময়ও বেড়ে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙা সড়কের কারণে বিয়ানীবাজার পৌরশহরে যাতায়াতে সময় আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ লাগছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নিম্নমানের নির্মাণ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং অতিরিক্ত ভার বহনকারী যানবাহন চলাচলের কারণে এসব সড়কের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ বিয়ানীবাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান জানান, চারখাই থেকে বারইগ্রাম এবং শেওলা থেকে সূতারকান্দি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ২৯ কিলোমিটার সড়ক সওজের আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১০ কিলোমিটার সড়ক জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
তিনি আরও জানান, এবার সংস্কারকাজে টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে, যেসব স্থানে পানি জমে বেশি ক্ষতি হয়, সেখানে কংক্রিট ব্যবহার করা হবে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, বিয়ানীবাজার পৌর এলাকায় প্রায় ৩৯ কিলোমিটার সড়ক এখনও কাঁচা। এছাড়া পাকা ও ইটের রাস্তা মিলিয়ে প্রায় ৬০ কিলোমিটার সড়কের বেশিরভাগই জরুরি সংস্কারের প্রয়োজন। গত এক বছরে সীমিত আয় ও বরাদ্দ দিয়ে সব ওয়ার্ডে সমানভাবে উন্নয়ন কাজ চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
বর্তমানে পৌরবাসীর প্রধান দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভাঙা সড়ক। পৌর এলাকার প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার কার্পেটিং রাস্তার বেশিরভাগই নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, বিয়ানীবাজারে তাদের অধীনে ৩৪৭টি সড়ক রয়েছে, যার মোট দৈর্ঘ্য ৬২৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৩৭২ কিলোমিটার মাটির, ১০৫ কিলোমিটার পাকা এবং ১৮২ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক।
উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, এখানকার ১৬৫টি সড়কের প্রায় ২০২ কিলোমিটার অংশ জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের প্রয়োজন।
এদিকে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকেও বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে মাটি ভরাট ও ছোট সেতু নির্মাণের কাজ করা হয়। এসব কাজ মূলত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের চাহিদার ভিত্তিতে কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা হয়।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, ভাঙা সড়কগুলোর সংস্কারকাজ ধীরে ধীরে শুরু হচ্ছে। আশা করি, ভবিষ্যতে সড়ক নিয়ে মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।
৩ দিন আগে
সংস্কারের চার মাসেই নষ্ট রংপুর-সৈয়দপুর সড়ক, উঠছে কার্পেটিং
রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কে সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে গর্ত ও ছোট-বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক সংস্কারের কাজটি ছিল দায়সারা ও নিম্নমানের। বড় গর্তগুলোতে সামান্য পাথর ও পিচ ব্যবহার করে নামমাত্র কাজ শেষ করা হয়েছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি পুনরায় সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
অধিকারকর্মীদের ভাষ্য, তদারকি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে জনগণের করের টাকা অপচয় হয়েছে। তবে সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, অতিরিক্ত ওজনের যানবাহন চলাচলের কারণেই সড়কের এমন অবস্থা হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মোড় থেকে পাগলাপীর বাজার, তারাগঞ্জের শলেয়াশাহ বাজার থেকে বরাতি সেতু, তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তারাগঞ্জ সেতু এবং তারাগঞ্জ বাজার থেকে চিকলি বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার সড়ক ডিবিএসটিসহ (ডাবল বিটুমিনাস সারফেস ট্রিটমেন্ট) সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ২৬ কোটি ৮৯ লাখ ৫৯ হাজার ৯৪৬ টাকার কাজটি পায় রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডন এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটি একই বছরের নভেম্বরে কাজ শেষ করে। কিন্তু চার মাস না যেতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে ফাটল ও গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাগলাপীর থেকে মেডিকেল মোড় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও ফাটল, কোথাও উঁচু-নিচু অবস্থার কারণে পানি জমে থাকছে যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
সিটির মোড় এলাকার বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, ‘সড়ক ও জনপদের কাজ শুধু সরকারের টাকা মেরে দেওয়া। এই সড়কে বড় বড় গর্ত ছিল। সেগুলো তুলে নামমাত্র পাথর আর পিচ দিয়ে সংস্কার করেছে। এ কারণে কার্পেটিং উঠে গর্ত তৈরি হচ্ছে। বর্ষা এলে আবারও বড় বড় গর্ত হবে। যে সংস্কার করছে, তা ওই জলে ধুয়ে-মুছে যাবে।’
পাগলাপীরের ব্যবসায়ী শাহিন মিয়া বলেন, ‘সড়কের কাজ শেষ হতে না হতেই আবার খারাপ হয়ে যায়। এসব দায়সারা কাজ করে মানুষকে বোঝানো হয়। এর আগে সংস্কারের সময় সেনাবাহিনী হাতেনাতে ভুল ধরেছিল। তবুও কাজের মান ভালো হয়নি।’
জানা গেছে, এই সড়কের সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। গত বছরের ২৩ জুলাই সেনাবাহিনীর একটি টহল দল কাজ চলাকালে অনিয়ম শনাক্ত করে। অভিযোগ রয়েছে, ১০ কিলোমিটার সড়কে প্রায় ৩৬৫ টন পাথর কম ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা সড়কের বর্তমান অবস্থার জন্য অতিরিক্ত ওজনের যানবাহনকে দায়ী করছেন। গত সোমবার সিটির মোড়ে সংস্কারকাজ চলাকালে সওজের গাড়িচালক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘এই রোডে ৮০-১০০ টনের গাড়ি চলে। এই ওভারলোডেড গাড়ি চললে সড়ক কোনো দিন ঠিক থাকবে না, গর্ত আর ফাটল ধরবেই। ৮০-১০০ টনের গাড়ি চললে অফিস কি করবে।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর জেলা সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, ‘সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়ম কতটুকু মানা হচ্ছে, তা তদারকি করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রকৌশলীদের। বিটুমিনের মান ঠিক রাখা এবং ম্যানুয়াল অনুযায়ী কার্পেটিং করা হয়েছে কি না, সেটিও তাদের দেখতে হয়। অল্প সময়ের মধ্যে একই সড়ক বারবার মেরামত করতে হচ্ছে, এতে জনগণের করের টাকা অপচয় হচ্ছে। রংপুর-সৈয়দপুর সড়কের বর্তমান অবস্থা অবহেলার ফল।’
রংপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘কিছু কিছু জায়গায় বেইজ সমস্যা ছিল, সে অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়েছে। যদিও বেইজ তুলে ফেলে নতুন করে কার্পেটিং করা দরকার ছিল, সেটি করা সম্ভব হয়নি। খুব দ্রুত একটি প্রকল্প নিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করা হবে। দেশের সব জায়গায় ওভারলোডিংয়ের কারণে সড়ক দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। চাইলেও এটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।’
৬ দিন আগে
সুনামগঞ্জের হাওরে জলাবদ্ধতা, নষ্ট হওয়ার পথে হাজার হেক্টর জমির ধান
মার্চের শেষ সপ্তাহে উজান-ভাটিতে ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতায় ডুবছে হাওরের বোরো ফসল। এতে পানি নিষ্কাশন নিয়ে হাওরের কৃষকরা মুখোমুখি অবস্থানে চলে এসেছেন। উজানের হাওরের কৃষকরা বাঁধ কেটে দিতে চাইলে ভাটির কৃষকরা বাধা দিচ্ছেন। কারণ তখন ভাটির কৃষকের জমি তলিয়ে যাচ্ছে। সরকারি হিসাবে এ সময় জলাবদ্ধতায় ১ হাজার ১৮৯ হেক্টর বোরো জমি তলিয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মওসুমে জেলার ৫৩টি ছোট-বড় হাওরে ৭১০টি পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠন করে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে দুর্বাঘাস লাগানোর কাজ।
গেল বছর মার্চ মাসে মাত্র ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলেও চলতি বছর মার্চ মাসে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে সুনামগঞ্জে। চেরাপুঞ্জিতেও এর চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে উজান-ভাটির বৃষ্টিপাতের পানি নদ-নদী ছাপিয়ে নানা দিক দিয়ে হাওরে ঢুকছে।
গত ৩১ মার্চ জরুরি সভা করে পানি নিষ্কাশনকল্পে সরেজমিন ঘুরে ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ পর্যন্ত অন্তত ১০টি হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বাঁধ আংশিক কেটে দেওয়া হয়েছে। বাঁধ কেটে দেওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। এক পক্ষ কেটে দিতে চাইলে ভাটির পক্ষ তাদের জমি জলাবদ্ধতার কারণে কাটতে দিচ্ছেন না। তবে প্রশাসনকে না জানিয়ে বাঁধ কাটার সুযোগ নেই বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ছোট-বড় মিলিয়ে দুই শতাধিক হাওরে এই ফসল লাগানো হয়েছে। চলতি মওসুমে সব ধান গোলায় তুলতে পারলে প্রায় ১৪ লাখ টন চাল উৎপাদিত হবে। এর বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার ৫০ কোটি টাকা।
তবে জলাবদ্ধতা ও আগামী সপ্তাহে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা থাকায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। মিনি পাগনার হাওর, হালির হাওর, কাইল্যানি হাওর, ছায়ার হাওর, পুটিয়ার হাওর, ডাকুয়ার হাওর, জোয়ালভাঙ্গা হাওর, কানলার হাওরসহ বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট হাওরগুলোর পানি নিষ্কাশনের খাল দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং হাওরের তুলনায় নদীতে বৃষ্টির পানি বেশি থাকায় পানি নিষ্কাশিত হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম বলেন, আমাদের ডাকুয়ার হাওরের উপরের অংশের কৃষকরা জোর করে বাঁধ কেটে দিতে চাইছেন। এতে নিচের অংশের কৃষকরা প্রতিবাদ করছেন। কারণ নিচে জলাবদ্ধ হাওরে নতুন করে আরও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে তাদের ধান। উপরের কৃষকদের পানি নিষ্কাশনের পথ নেই। তবে উপরের অংশের কৃষকরা পানি নিষ্কাশনের খালটি নোওয়াগাঁও এলাকায় বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের এই সমস্যা হয়েছে বলে জানান তিনি।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সহ-সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, গতবারের চেয়ে এবার আগাম বৃষ্টি বেশি হচ্ছে। এর ফলে পানি বেড়েছে। কিন্তু এই পানি ধারণের আধার নদ-নদী ও খাল-বিল বরাট হয়ে গেছে। যার ফলে তুলনামূলক নিচু এলাকা হওয়ায় প্রতিটি হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এখন জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে কৃষকরা মারামারি করছেন। একমাত্র নদ-নদী-বিল খনন করে দিলেই এই সমস্যা কমে যাবে বলে তিনি মতামত দেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, এবার চেরাপুঞ্জি ও সুনামগঞ্জেও বৃষ্টিপাত গতবারের চেয়ে বেশি হয়েছে। প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে। এই পানি এখন হাওরে চাপ তৈরি করেছে। অথচ গত বছর মার্চ মাসে মাত্র ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে এ নিয়ে জরুরি সভায় কমিটি করে প্রশাসনকে নিয়ে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি হাওরের পানি নিষ্কাশনও হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক বলেন, এ পর্যন্ত জেলার ১ হাজার ১৮৯ হেক্টর বোরো জমি জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য আমরা প্রশাসনকে বলেছি। তবে নিষ্কাশন করতে গিয়েও হাওরের উঁচু ও নিচু এলাকার কৃষকরা মুখোমুখি অবস্থানে পৌঁছেছেন। কারণ এক পক্ষের পানি নিষ্কাশিত হলে অপরপক্ষের ফসল জলাবদ্ধ হয়। এছাড়াও আগামী ৬-৭ এপ্রিল ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।
৭ দিন আগে
কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন, এক সপ্তাহে গৃহহীন ৫০ পরিবার, ঝুঁকিতে শতাধিক
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের সুখেরবাতি ও ঘুঘুমারী এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙনে গত এক সপ্তাহে অন্তত ৫০টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙনের ফলে প্রায় ৪০০ মিটার এলাকাজুড়ে বসতভিটা ও শত শত বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা ঘরবাড়ি সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। তবে নতুন করে আরও শতাধিক পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম (৪৫) বলেন, নদীভাঙনে আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। কোথায় যাব, কী করব বুঝতে পারছি না।
স্থানীয় বাসিন্দা কাশেম আলী (৫৫) বলেন, এক এক করে সব জমি-ঘর নদীতে চলে যাচ্ছে, আমরা এখন নিঃস্ব।
কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন সংস্থার সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, শুষ্ক মৌসুমে ব্রহ্মপুত্রের পানির স্তর কমে গেলে ভাঙনের প্রবণতা বেড়ে যায়। নদীর চ্যানেল সরু হয়ে যাওয়া এবং পাড়ের মাটির গঠন দুর্বল থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি ভাঙনকবলিতদের পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
রৌমারী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইমান আলী বলেন, ইতোমধ্যে ৫০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে এবং আরও শতাধিক পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে বিষয়টি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদকে জানানো হয়েছে।
১৪ দিন আগে
কক্সবাজারে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে টানা ছুটিতে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পর্যটকদের আগমনে সৈকত ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো এখন উৎসবমুখর পরিবেশে সরগরম হয়ে উঠেছে।
ছুটির সময় ভ্রমণপিপাসু মানুষের শীর্ষ পছন্দ হিসেবে বরাবরের মতো এবারও কক্সবাজারে ভিড় জমিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকরা। ঈদের সাত দিনের ছুটিতে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে লাখো মানুষ এখানে বেড়াতে এসেছেন।
প্রতিদিন সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টসহ প্রধান পর্যটন স্পটগুলোতে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। পাশাপাশি ইনানী সৈকত, মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি, রামু বৌদ্ধ মন্দির ও মহেশখালী আদিনাথ মন্দির এলাকাতেও পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক আবদুল মাবুদ বলেন, কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবসময়ই আমাকে আকর্ষণ করে। তাই ঈদের ছুটি কাটাতে এখানে এসেছি। আরও কয়েক দিন থাকার পরিকল্পনা আছে।
পর্যটকদের আগমনে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ও চাঙাভাব ফিরেছে। বিশেষ করে শুঁটকি ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। বার্মিজ মার্কেটের এক শুঁটকি বিক্রেতা জানান, রমজানে ব্যবসা কিছুটা স্থবির থাকলেও গত কয়েক দিনে পর্যটক বাড়ায় বিক্রি বেড়েছে।
১৬ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ে পাম্পে পেট্রোল নেই, বাজারে ৩৫০ টাকা লিটার
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেটোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন জ্বালানির জন্য এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ছুটছেন ক্রেতারা। কোথাও সীমিত পরিমাণ এলেও দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও তা পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘ চেষ্টা সত্ত্বেও পেট্রোল না পেয়ে গ্রাহকরা ফিরে যাচ্ছেন।
তবে পাম্পে পেট্রোল না মিললেও একই সময়ে স্থানীয় বাজারগুলোতে অতিরিক্ত দামে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তা। বিশেষ করে কৃষক ও মোটরসাইকেলের চালকদের ভোগান্তি অনেক বেশি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত পেট্রোল ও অকটেন পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। অধিকাংশ পাম্পেই ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ ঝুলছে। কোথাও সীমিত সরবরাহ এলেও তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেক যানবাহন পেট্রোল না নিয়েই ফিরে যাচ্ছে। এ নিয়ে কোথাও কোথাও বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনার ঘটনাও ঘটছে।
জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, রুহিয়া রামনাথ হাটে প্রতি লিটার পেট্রোল ২৭০ টাকা, সেনিহারী বাজারে ৩৫০ টাকা, ঢোলারহাটে ৩১০ টাকা, আকচা ইউনিয়নের ফাড়াবাড়ি বাজারে ২৫০ টাকা, রাণীশংকৈল চেকপোস্ট বাজারে ২৩০টাকা, ধনিরহাটে ৩০০ টাকা, ভরনিয়া বাজারে ৩২০ টাকা, বাদামবাজারে ২৮০ টাকা, সনগাঁও বাজারে ৩০০ টাকা, লাহিড়ী বাজারে ২৬০ টাকা, কাচকালী বাজারে ৩০০ টাকা, পল্লীবিদ্যুৎ বাজারে ২৮০ টাকা এবং কাউন্সিল বাজারে ২৫০ টাকায় পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকার নির্ধারিত দামে পেট্রোল প্রতি লিটার ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা থাকার কথা।
গত বৃহস্পতিবার রাতে শহরের একটি ফিলিং স্টেশনে তেল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো গ্রাহকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ৫০-৬০ জনের অজ্ঞাত পরিচয় একটি দল স্টেশনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এতে স্টেশনটির অন্তত দুজন স্টাফ আহত হন।
একই রাতে শহরের বিসিক এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে তেল কম দেওয়ার অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে প্রশাসন। অভিযোগ ছিল, মজুদ থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের তেল না দিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছিল।
এ ছাড়াও শহরের আরেকটি ফিলিং স্টেশনে তেল না দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ছবি ধারণে বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
মোটরসাইকেলচালক রাশেদ বলেন, পাম্পে গেলেই বলা হচ্ছে তেল নেই, অথচ একটু দূরে গেলেই একই তেল বোতলে করে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তাহলে প্রশ্ন হলো, এই তেলগুলো আসছে কোথা থেকে? পাম্পে যদি সত্যিই পেট্রোল না থাকে, তাহলে বাজারে এত পেট্রোল কীভাবে পাওয়া যাচ্ছে? বিষয়টা সাধারণ মানুষের কাছে খুবই সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট—এখানে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট কাজ করছে। তারা পরিকল্পিতভাবে ফিলিং স্টেশনগুলোতে সরবরাহ সীমিত রেখে বা বন্ধ দেখিয়ে বাইরে বেশি দামে তেল বিক্রি করছে। এতে করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অতিরিক্ত মুনাফা লুটে নেওয়া হচ্ছে।
কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, এখন সেচের মৌসুম চলছে। এই সময়টায় জমিতে নিয়মিত পানি দিতে না পারলে ধানসহ অন্যান্য ফসল বাঁচানো একেবারেই কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু ডিজেল সংকটের কারণে আমরা ঠিকমতো সেচ দিতে পারছি না। ফিলিং স্টেশনগুলোতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না, খালি হাতে ফিরে আসতে হচ্ছে। অন্যদিকে, খোলা বাজারে তেল পাওয়া গেলেও সেখানে দাম এত বেশি যে আমাদের মতো সাধারণ কৃষকদের পক্ষে তা বহন করা খুবই কষ্টকর। তারপরও ফসল বাঁচানোর জন্য বাধ্য হয়ে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে।
আরেক ভুক্তভোগী সেলিম উদ্দিন বলেন, সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী পেট্রোল ও ডিজেল প্রতি লিটার কত হবে, সেটা কাগজে ঠিক করা হলেও মাঠে সেটার কোনো প্রভাব নেই। ফিলিং স্টেশনগুলোতে নিয়মিত তেলের সরবরাহ নেই, তাই সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে। আমরা পাম্পে যাই, সেখানে তেল নেই বলে ফেরত আসতে হয়। তারপরও খোলা বাজারে সেই একই তেল অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।
তবে একাধিক ফিলিং স্টেশন মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক নয়। চাহিদা বেশি হওয়ায় যা আসে তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, যেখানে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অবৈধভাবে তেল মজুদ ও বেশি দামে বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি হেলমেট ও মাস্ক পরে ছদ্মবেশে মোটরসাইকেলে গ্রামের বাজারের দোকানে দোকানে অভিযান চালাচ্ছেন। এতে কিছুটা সুফল পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
১৮ দিন আগে
কুমারখালীর ‘মাংস সমিতি’ বদলে দিচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষের ঈদের আনন্দ
ঈদ মানেই আনন্দ, কিন্তু সেই আনন্দের বড় অংশ জুড়ে থাকে সামর্থ্যের প্রশ্ন। বাজারে গরুর মাংসের উচ্চমূল্যে যেখানে অনেক নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য ঈদের খাবার তালিকায় মাংস রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ‘মাংস সমিতি’ নামের এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নতুন করে হাসি ফোটাচ্ছে অসংখ্য মানুষের মুখে।
‘আমরা গরিব মানুষ, দিন আনি দিন খাই। বাজারে গোস্তের যে দাম, তাতে কিনে খাওয়া যায় না। সমিতিতে প্রতি সপ্তাহে ৫০ টাকা করে জমা দিছিলাম। সারা বছরের জমানো টাকায় প্রায় চার কেজি গোস্ত পাইছি। ঈদে বউ-ছেলেপেলে নিয়ে খামু।’
কথাগুলো বলছিলেন কুমারখালীর যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া গ্রামের দিনমজুর মো. রইচ উদ্দিন (৫৫)। তার মুখের হাসিই যেন এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় সাফল্যের গল্প।
একই গ্রামের ইজিবাইকচালক আমিরুল ইসলাম জানান, বাজারে এক কেজি গরুর মাংসের দাম ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। ‘সংসারের খরচ মিটিয়ে সবাই কিনতে পারে না। তাই ৩০ জন মিলে সমিতি করেছি। কেউ ৫০ টাকা, কেউ ১০০ টাকা করে জমা দিছিল। শেষে কেউ চার কেজি, কেউ আট কেজি করে গোস্ত পাইছি।’
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরে গরুর মাংসের দাম নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ফলে পরিবারের আমিষের চাহিদা পূরণ করাও কঠিন হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতা থেকেই কুমারখালী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ২০ থেকে ৩০ জন মিলে গড়ে তুলেছেন ছোট ছোট সঞ্চয়ভিত্তিক ‘মাংস সমিতি’।
এই সমিতিগুলোতে সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে জমা দেন। বছর শেষে সেই টাকায় ঈদের আগে গরু কেনা হয় বা কসাইয়ের কাছ থেকে মাংস কিনে সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। সাধারণত ৫০ টাকা করে জমা দেওয়া সদস্যরা প্রায় ৪ কেজি এবং ১০০ টাকা করে জমা দেওয়া সদস্যরা প্রায় ৮ কেজি মাংস পান।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল থেকে উপজেলার যদুবয়রা, পান্টি, বাগুলাট, চাপড়া, নন্দলালপুর ও পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে উৎসবমুখর দৃশ্য। কোথাও গরু জবাই হচ্ছে, কোথাও মাংস কাটার ধুম, আবার কোথাও ওজন করে ব্যাগে ভরা হচ্ছে। চারপাশে অপেক্ষমাণ সদস্যদের মুখে উচ্ছ্বাস আর প্রত্যাশার ছাপ স্পষ্ট।
২১ দিন আগে
সময় পেরিয়েও শেষ হয়নি বাঁধের কাজ, হাওরে আশঙ্কায় কৃষক
হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার ৯টি হাওরের ১৩৪টি প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ হয়নি। বরাদ্দকৃত অর্থ না পাওয়ায় সময়মতো কাজ শেষ করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যরা।
এ অবস্থায় ধারদেনা করে কাজ চালিয়ে নেওয়া পিআইসি সদস্যরা পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে নানা বিড়ম্বনায় পড়েছেন। অন্যদিকে, সময়মতো বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় হাওরের বোরো ফসল রক্ষা নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, এই দুই উপজেলায় ৯টি হাওরের বাঁধের কাজ সোমবার পর্যন্ত গড়ে ৭৯ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকৃত অগ্রগতি ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশের বেশি নয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল, গুরমা, গুরমার বর্ধিতাংশ, ঘোড়াডোবা, রুই বিল, সোনামড়ল, কাইলানী, জয়ধনা ও ধানকুনিয়া—এই ৯টি হাওর সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন। এসব হাওরে ধর্মপাশায় ৯৩টি এবং মধ্যনগরে ৪১টি প্রকল্পসহ মোট ১৩৪টি প্রকল্পের বিপরীতে ২৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তা শেষ হওয়ার কথা ছিল। চার কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের নিয়ম থাকলেও এখন পর্যন্ত পিআইসিরা কেবল প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন।
সোমবার (২ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত সরেজমিনে ধর্মপাশার চন্দ্র সোনার থাল, সোনামড়ল এবং মধ্যনগরের ঘোড়াডোবা, গুরমা ও কাইলানী হাওরের অন্তত ৩০টি প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। কিছু প্রকল্পে নামমাত্র কাজ চলমান, আবার কয়েকটি বাঁধ নিম্নমানেরভাবে নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মধ্যনগর উপজেলার কাইলানী হাওরের ১৩ নম্বর প্রকল্পের পিআইসি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমার বাঁধটির দৈর্ঘ্য এক হাজার ২৯৫ মিটার। বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা। ভেকু মেশিন নষ্ট থাকার কারণে ও টাকার অভাবে কাজ কয়েকদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ধারদেনা করে এতদিন কাজ চালিয়েছি। পুরো কাজ শেষ করতে আরও ৮ থেকে ১০ দিন লাগবে।’
ধর্মপাশার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের ৩৯ নম্বর প্রকল্পের সদস্য সচিব মিজানুর রহমান বলেন, ‘কাজের মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত প্রথম কিস্তির টাকাই পেয়েছি। ধারদেনা করে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এনেছি। এখন পাওনাদারদের টাকা দিতে না পারায় বাঁধে যেতে পারছি না, নানা কটু কথা শুনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে এক সপ্তাহ ধরে কাজ বন্ধ রেখেছি।’
হাওরপাড়ের কৃষকেরা জানান, প্রতিবছরই বরাদ্দের অর্থ ছাড়ে বিলম্বের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। সময়মতো কাজ শেষ না হলে এবার বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির সদর ইউনিয়ন সভাপতি বিপ্লব তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিত বাঁধ পরিদর্শন করেন না। অনেক স্থানে নিম্নমানের কাজ হয়েছে এবং ঘাস লাগানো হয়নি, ফলে বৃষ্টির পানিতে বাঁধের অংশ ধসে পড়ছে।
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, ‘অর্থের অভাবে অনেক পিআইসি প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। বিষয়টি জেলা কমিটিকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত অর্থ ছাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, ‘প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ছাড় না হওয়ায় পরবর্তী কিস্তির অর্থ দেওয়া যাচ্ছে না। আমরা দ্রুত সমস্যার সমাধানে কাজ করছি।’
২২ দিন আগে
ঈদযাত্রায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক পাড়ি দেওয়া নিয়ে যাত্রীদের শঙ্কা
সিলেটে শুরু হয়েছে উৎসবমুখর ঈদযাত্রা। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে টানা ছুটির আমেজে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে নগরজুড়ে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা পাচ্ছেন ৭ দিনের দীর্ঘ ছুটি। আর সোমবার ছিল তাদের শেষ কর্মদিবস। বিকেল গড়াতেই নগরীর সড়ক ও বাস টার্মিনালগুলোতে দেখা যায় যাত্রীদের ব্যাপক ভিড়। শুরু হয় প্রিয়জনের কাছে ফেরার আনন্দঘন যাত্রা।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী শনিবার (২১ মার্চ) দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। এ সম্ভাব্য তারিখ ধরে আগে থেকেই ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ঈদের দিন সাধারণ ছুটি এবং আগে ও পরে নির্বাহী আদেশে অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত করা হয়েছে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ১৮ মার্চও নতুন করে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি মিলিয়ে সিলেটের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা ৭ দিনের অবকাশ পাচ্ছেন। এর আগে, ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণার দাবির পর তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে জরুরিসেবা সচল রাখতে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, টেলিযোগাযোগ ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন খাতের কর্মীরা ছুটির বাইরে থাকছেন। পাশাপাশি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সেবাও চালু থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, এ আনন্দের মধ্যেই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভোগান্তির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জ অংশে চলমান উন্নয়নকাজ এবং কিছু স্থানে সরু সড়কের কারণে তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার পথ ঈদযাত্রায় ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তাছাড়া মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশের কাটিহাতা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ছয় লেন প্রকল্পের ধীরগতি, ভাঙাচোরা রাস্তা এবং বিভিন্ন স্থানে অবৈধ স্থাপনা ও হাটবাজারের কারণে যানজট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে। একইসঙ্গে মহাসড়কের অন্তত দুইটি লেন সচল রাখার চেষ্টা চলছে। ধীরগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
যাত্রী ও যানবাহন চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদযাত্রায় প্রতিবারই ভোগান্তির কারণ হয় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অংশ। আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত নির্মাণাধীন ১২ কিলোমিটার সড়কটি ভোগান্তির মূল কারণ। ছয় লেন মহাসড়কের আশুগঞ্জ গোলচত্বর ও বিশ্বরোড মোড়ে প্রায় প্রতিদিন যানজট লেগেই থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। একইভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরেক অংশ চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কের সদর উপজেলার সুলতানপুর ও আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তন্তর বাজার এলাকাজুড়ে যানজট লেগে থাকছে। ঈদে যানবাহন বাড়লে এই ভোগান্তি কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।
পুলিশ জানায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৪৩টি যানজটপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে কোনো ধরনের যানজট সহ্য করা হবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্মাণাধীন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশের ওপর দিয়ে চলাচল করে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট ও সুনামগঞ্জের কয়েক লাখ যাত্রী ও পরিবহন। রাজধানী পার হওয়ার পর বেশিরভাগ সড়কে স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করা গেলেও আশুগঞ্জ গোলচত্বর ও বিশ্বরোড গোলচত্বর অংশ অতিক্রম করতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। দুইটি গোলচত্বরে মহাসড়কের কাজ চলমান থাকায় প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়।
গত কয়েক বছরেও কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রী ও চালকরা। এর মধ্যে ঈদের ছুটিতে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। ফলে মহাসড়কের এই অংশজুড়ে তীব্র যানজটের পাশাপাশি ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকরা। একইসঙ্গে বিশ্বরোড, কুট্টাপাড়া, আশুগঞ্জ গোলচত্বর, সোহাগপুর এবং সোনারামপুরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ডগুলো যানজটের অন্যতম কারণ।
একইভাবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশের দুইটি স্থানে তীব্র যানজট দেখা যায়। এর মধ্যে সদর উপজেলার সুলতানপুর ও আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তন্তর বাজারের অংশে ভাঙাচোরা সড়কের কারণে যানবাহনকে ধীরগতিতে চলতে হয়। সড়কটির কাউতলী, রামরাইল, রাধিকা, সুলতানপুর, তন্তর, তিনলাখ পীর, সৈয়দাবাদ, মনকসাইর, খাড়েরা এবং কুটি চৌমুহনীতে মহাসড়কের দুই পাশে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডের কারণে তীব্র যানজটের শঙ্কা আছে। পাশাপাশি যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, তিন চাকার যান চলাচলও ভোগান্তির কারণ হতে পারে।
এদিকে, সড়কপরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে বরিশালের বাকেরগঞ্জে গোনা সেতুর উদ্বোধনকালে বলেন, ঈদ উদযাপনে আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে দেড় কোটি লোক ঢাকা ছাড়বে। এই যাত্রা স্বাভাবিক করাটা চ্যালেঞ্জিং। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা যেভাবে কাজ করছি, তাতে আশা করি কোনো ভোগান্তি ছাড়াই সবাই বাড়ি যেতে পারবে।
২৩ দিন আগে