বিশেষ সংবাদ
আদিতমারীতে অবৈধ স্থাপনার দখলে সরকারি জমি, ঈদগাহ-সড়কের ধারে বসছে হাট
তদারকির অভাবে সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার অধিকাংশ হাট এখন বসছে ঈদগাহ মাঠ, ভাড়াকৃত জমি কিংবা সড়কের ধারে। এতে যেমন ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আদায়েও বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
জানা গেছে, উপজেলার রাজস্ব আদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত হাট-বাজার ইজারা। উপজেলার আটটি ইউনিয়নে প্রায় অর্ধশত হাট ও বাজার থেকে বার্ষিক ইজারার মাধ্যমে সরকার রাজস্ব আদায় করে। নিয়ম অনুযায়ী, আদায়কৃত অর্থের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট হাট-বাজারের উন্নয়নে ব্যয় হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। বরং অধিকাংশ হাট-বাজারের সরকারি জমি এখন অবৈধ দখলে। শুধু দোকানঘর নয়, ড্রেন, টিউবওয়েল ও শৌচাগারও দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। পানি ও বর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বাজারগুলোতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এবং পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সরকারি জমি দখল করে একজন ৪-৫টি পর্যন্ত দোকানঘর ও গুদাম নির্মাণ করে ভাড়া দিচ্ছেন। এসব দোকানের জন্য মোটা অঙ্কের জামানত ও মাসিক ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। ফলে বাজারে চলাচলের পথও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কাদা-পানি মাড়িয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের, আর পণ্য কেনাবেচায় আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্রেতারাও। এতে একদিকে হাটের মূল নকশা বদলে গেছে, অন্যদিকে হাটুরেদের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। একই সঙ্গে সাধারণ ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত জামানত ও ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
সরকারি জমি অবৈধ দখলে চলে যাওয়ায় ইজারাদাররা বাধ্য হয়ে ভাড়াকৃত জমি বা সড়কের পাশে হাট বসাচ্ছেন। এতে তারাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি নির্ধারিত হারের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি খাজনা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। সড়কের পাশে হাট বসায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি কমছে সরকারি রাজস্ব আদায়ও। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার মিলছে না বলে অভিযোগ ইজারাদারদের।
১৩ ঘণ্টা আগে
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই চাঁদপুরে সেতুতে ফাটল
চাঁদপুরের মতলব পৌরসভা এলাকায় প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুতে কাজ শেষ হওয়ার আগেই বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছিল। এসব অভিযোগের প্রতিবাদ করায় বর্তমানে ঠিকাদার নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
ঘটনাটি মতলব পৌরসভার শহীদ উল্যাহর দোকান থেকে বড়দিয়া বাজার সড়কের ইছহাক মিজির বাড়ি-সংলগ্ন নির্মাণাধীন সেতুর।
প্রায় ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই সেতুর স্থানে আগে ১০ ফুটের একটি কালভার্ট ছিল। প্রায় চার মাস আগে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। একই প্রকল্পের আওতায় সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কও নির্মাণ করার কথা রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে সেতুটির বিভিন্ন অংশে দৃশ্যমান ফাটল দেখা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই এ ধরনের ফাটল প্রকল্পটির গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
১ দিন আগে
ঝুঁকিতে খুলনা আতাই নদীর বাঁধ, ১০ গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার আতাই নদীর কূল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া কামারগাতি-পথের বাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সড়কটিতে একসময় ভ্যান, রিকশা, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, নসিমন, করিমনের পাশাপাশি বাসও চলাচল করত। কালিয়া, তেরোখাদা, গাজীরহাট, কোলা, আড়ুয়া আমবাড়ীয়া, কামারগাতী, লাখোয়াটি, মাধবপুর, রাধামাধবপুর, নন্দনপ্রতাপ, বারাকপুর, মোমিনপুর এলাকার মানুষের দৌলতপুর হয়ে শহরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম সড়ক ছিল এটি। তবে গত এক যুগ ধরে আতাই নদীর করাল গ্রাসে ভাঙতে ভাঙতে সড়কটির দুই তৃতীয়াংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে; রূপান্তরিত হয়েছে বেড়িবাঁধে। বিকল্প সড়ক দিয়ে এখন যাতায়াত করছে মানুষ।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মোমিনপুর-হাজীগ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে সড়কের ওই অংশের বাঁধটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বাঁধের উপর দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। এতে তৈরি হয়েছে বড় বড় ফাটলের। ভেঙে যাওয়ার মারাত্মক আশঙ্কা দেখে গতকাল (শুক্রবার) তাৎক্ষণিকভাবে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে জোয়ারের পানি কমলে সন্ধ্যার পর থেকে রাত অবধি আলো জ্বালিয়ে বাঁশ এবং মাটি দিয়ে সংস্কার করে প্রাথমিকভাবে ভেঙে পড়া থামিয়েছে। তবে এখনও কাটেনি ঝুঁকি।
তারা আরও বলেন, বাঁধটি ভেঙে গেলে দশটিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হবে। শত শত ঘরবাড়ি, মাছের ঘের, ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাবে। কোটি কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে।
তাদের দাবি, সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবছর আতাই নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় এ এলাকায় সরকারিভাবে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও কোনো সুফল মিলছে না।
২ দিন আগে
লামায় সড়ক ও সেতু নির্মাণে অনিয়ম-ধীরগতির অভিযোগ, দুর্ভোগে ৬ গ্রামের মানুষ
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের কুমারী-চাককাটা সড়কের উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণকাজে অনিয়ম এবং ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ রোগীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে না পারায় অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফলে এলাকার হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, বালুর পরিবর্তে পাহাড়ের মাটি দিয়ে কাজ করা এবং ঠিকাদারের দীর্ঘসূত্রতার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে কুমারী-চাককাটা সড়কের দুই কিলোমিটার কার্পেটিং নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এতে চুয়াডাঙ্গার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকাউল্লাহ কন্সট্রাকশন কাজটি পেলেও বাস্তবে কাজটি করছেন বান্দরবানের ঠিকাদার মেহেদী হাসান। কয়েক মাস আগে শুরু হওয়া প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে দাবি করা হলেও বর্তমানে কাজ কার্যত বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কাজের শুরুতেই সড়কের স্কুলপাড়া এলাকার সচল ও ব্যবহৃত পুরোনো সেতুটি ভেঙে ফেলা হয়। পরে সেতুর রড, ইটসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী ঠিকাদারি কর্তৃপক্ষ বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নতুন সেতু নির্মাণ না করেই কাজ ফেলে রাখায় বর্তমানে সামান্য বৃষ্টিতেই পাহাড়ি ঢল ও পানির তোড়ে ওই অংশ দিয়ে চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী নড়বড়ে সাঁকো তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, কাজ শেষ না করেই সচল পুরোনো সেতু ভেঙে ফেলার প্রয়োজন কী ছিল?
৪ দিন আগে
৫৪ বছরেও মেলেনি বিভাগীয় স্বীকৃতি, ঝিনাইদহে ডাক বিভাগের কর্মচারীদের কর্মবিরতি, ভোগান্তিতে গ্রাহক
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সরকারি ডাক বিভাগের এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল (ইডি) কর্মচারীরা এখনও বিভাগীয় কর্মচারীর স্বীকৃতি পাননি। মাত্র ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৪৬০ টাকার ভাতায় দিনরাত দায়িত্ব পালন করা এসব কর্মচারী পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতির ‘ন্যায্য’ দাবিতে গত ৬ জুলাই থেকে ঝিনাইদহসহ সারা দেশে পূর্ণ কর্মবিরতি ও ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এর ফলে ঝিনাইদহে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে ডাকসেবা। এতে করে সাধারণ গ্রাহকরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
আন্দোলনরত কর্মচারীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে আমাদের এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
আন্দোলনরত গোপালপুর শাখা পোস্টমাস্টার রিপন হোসেন বলেন, ‘ঝিনাইদহে ১০৪টি শাখা ডাকঘরে প্রায় ৩০০ জন এবং সারা বাংলাদেশে ৮ হাজার ৫৪৩টি ডাকঘরে মোট ২৩ হাজার ২১ জন ইডি কর্মচারী কর্মরত আছেন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে চরম বৈষম্যের শিকার।’
তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার আন্দোলন-সংগ্রামের মুখে ভাতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিলেও বিগত ৮ বছরেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এমনকি আমাদের কোনো উৎসব ভাতা বা ঈদ বোনাসও নেই। বর্তমান বাজারদরে এই সামান্য আয়ে সংসার চালানো আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
৫ দিন আগে
পানের বরজে বদলে গেছে নওগাঁর তিন গ্রামের ভাগ্য
একসময় যেখানে কৃষকের স্বপ্ন সীমাবদ্ধ ছিল মৌসুমি ফসলের আয়-ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে, সেখানে আজ পানের বরজ এনে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। জালম, মাগুড়া ও জাগেশ্বর এখন শুধু তিনটি গ্রামের নাম নয়; এগুলো গ্রামীণ অর্থনীতির পরিবর্তন, কৃষকের আত্মবিশ্বাস এবং স্বাবলম্বিতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
উত্তরের জেলা নওগাঁ সদর উপজেলা থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের তিনটি গ্রাম—জালম, মাগুড়া ও জাগেশ্বর। গ্রামগুলোতে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে সবুজের এক অনন্য বিস্তার। চারদিকে সারি সারি পানের বরজ, যেন সবুজের ভেতরে আরেক সবুজের রাজ্য। স্থানীয়দের কাছে এখন এই জনপদ পরিচিত ‘পানের গ্রাম’ নামে। একসময় ধান চাষনির্ভর এই এলাকার কৃষকরা এখন পানের আবাদকে কেন্দ্র করে গড়ে তুলেছেন নতুন অর্থনীতির ভিত্তি।
প্রায় আড়াই হাজার মানুষের বসবাস এই তিন গ্রামে। বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, যেদিকে চোখ যায়, সেখানেই পানের বরজ। প্রতিটি বরজ যেন কৃষকের পরিশ্রম, স্বপ্ন ও সাফল্যের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। সবুজ পাতার আড়ালে লুকিয়ে আছে সংগ্রাম থেকে স্বচ্ছলতায় পৌঁছে যাওয়ার গল্প।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকার উঁচু ও বন্যামুক্ত বেলে-দোআঁশ মাটি এবং অনুকূল আবহাওয়া পানের চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। নিয়ন্ত্রিত সেচব্যবস্থা, আগাছামুক্ত জমি, সঠিক পানি নিষ্কাশন ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে কৃষকরা গড়ে তুলেছেন আধুনিক ও কার্যকর চাষাবাদ পদ্ধতি। নিজেদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি কৃষি বিভাগের পরামর্শও তাদের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
৬ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় খানাখন্দে ভরা সড়কে ভোগান্তি বাড়িয়েছে বৃষ্টি
কুষ্টিয়ার কুমারখালী শহর থেকে পান্টি বাজার পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক। তবে সড়কটি যেন আর সড়ক নেই, অসংখ্য ছোট বড় খানাখন্দে ভরে গেছে সেটি। কোথাও আবার বৃষ্টির পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে ছোটখাটো পুকুর। ভাঙা সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। তবুও নিত্য প্রয়োজন মেটাতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ। এতে করে চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার যদুবয়রা, পান্টি, চাঁদপুর ও বাগুলাট ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ।
এলজিইডি কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে সড়কটি পুনঃসংস্কার করে এলজিইডি। তবে ১০ টন ধারণক্ষমতার এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিনই ২৫ থেকে ৩০ টন ওজনের অসংখ্য বালুবাহী ড্রাম ট্রাক ও ভারী যানবাহন চলাচল করে। ফলে সংস্কারের মাত্র চার বছরের মাথায় বেহাল দশা হয়েছে সড়কটির।
এলাকাবাসী জানায়, কুমারখালীর দক্ষিণ অঞ্চলের চারটি ইউনিয়নবাসীর উপজেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক এটি। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিনই নানাবয়সি দুই থেকে তিন লাখ মানুষ চলাচল করে। এ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার একাংশের মানুষ চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে। কিন্তু অবৈধভাবে অতিরিক্ত বালুবাহী ১০ চাকার ট্রাক ও ভারী যানবহন চলাচলের কারণে সংস্কারের পর দ্রুতই ভেঙে গেছে সড়কটি। ভাঙা সড়কে চলতে ঘটছে ছোট-বড় অসংখ্য সড়ক দুর্ঘটনা। দ্রুত ভারী যানবহন চলাচল বন্ধের পাশাপাশি সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান তারা।
৭ দিন আগে
পদ্মায় পানি বাড়ায় ফেরি চলাচল ব্যাহত, পাটুরিয়ায় ফেরি-লঞ্চে ওঠানামায় বেড়েছে দুর্ভোগ
পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার পাঁচটি ফেরিঘাটের মধ্যে তিনটির পন্টুন ডুবে গেছে। ফলে ওই তিনটি ঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে শুধু ২ ও ৪ নম্বর ঘাট দিয়ে ফেরিতে যানবাহন ওঠানামা করছে। ঘাটের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পারাপারে বিলম্ব হচ্ছে এবং ঘাট এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও যানবাহন চালকরা।
৮ দিন আগে
দেড় বছর ধরে অচল সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স, ভোগান্তি চরমে
হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসা ২৫০ শয্যার সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও দুর্গম হাওরাঞ্চল থেকে শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে এ হাসপাতালে আসেন। অথচ হাসপাতালের একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় দেড় বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় জরুরি রোগী, প্রসূতি ও চিকিৎসকদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া রোগীদের পরিবহনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
জীবনরক্ষাকারী এ সেবা বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রতিদিনই রোগীদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় রোগীদের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হচ্ছে। এতে কয়েক হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক পরিবার চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া জোগাতে ধারদেনাও করতে বাধ্য হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই অকেজো হয়ে পড়ে আছে। পরে এটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সচল করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে একটি পুরোনো অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে আনা হলেও প্রয়োজনীয় মেরামতের অভাবে সেটিও এখন পর্যন্ত সেবায় যুক্ত করা যায়নি।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হক বলেন, আমার এক আত্মীয়কে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সদর হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলাম। পরে চিকিৎসক সিলেটে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বেশি ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে নিতে হয়েছে।
আরেক রোগীর স্বজন তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় রোগী নিয়ে আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া জোগাড় করতেই অনেক সময় চলে যায়। গরিব মানুষের জন্য এই খরচ বহন করা খুবই কঠিন।
জেলার সচেতন নাগরিকদের দাবি, হাওরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত সদর হাসপাতালের জন্য নতুন সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ এবং বিকল্প অ্যাম্বুলেন্স চালুর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একটি অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে যেন কোনো রোগীর জীবন ঝুঁকিতে না পড়ে, সে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, পুরোনো সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি অকেজো হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে হাসপাতালে সরকারি কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই। একটি পুরোনো অ্যাম্বুলেন্স আনা হয়েছে, তবে সেটি এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
১০ দিন আগে
জলাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত সংকটে পটুয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়
একটি বিদ্যালয় শুধু পাঠদানের স্থান নয়; এটি শিশুদের নিরাপদ বেড়ে ওঠা, শারীরিক-মানসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ গঠনের ভিত্তি। কিন্তু পটুয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী শেরেবাংলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা ও জরাজীর্ণ ভবনের কারণে সেই পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শুধু ভবনের ঝুঁকিই নয়, নিয়মিত পাঠদান, খেলাধুলা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের শেখার সময় কমে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছে।
১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৮৫৭ জন শিক্ষার্থী এবং ৩০ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। পাঁচটি ভবন থাকলেও এগুলোর অধিকাংশই বহু বছর আগে নির্মিত। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে একটি অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর প্রায় ২৯ বছরেও নতুন কোনো ভবন নির্মিত হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনের দেওয়ালে বড় বড় ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া এবং বারান্দার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের মাঠ, চলাচলের পথ এবং শ্রেণিকক্ষের সামনের অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় কয়েকদিন ধরে পানি জমে থাকে। বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের পানি মাড়িয়ে শ্রেণিকক্ষে যেতে হয়। অনেক সময় সাপ, বিচ্ছু ও অন্যান্য বিষধর প্রাণীর আতঙ্কও তৈরি হয়।
১১ দিন আগে