বিশেষ সংবাদ
তিন শিক্ষিকায় চলছে কাজহরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাজহরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। জনবল সংকটের কারণে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৩১৩ জন শিক্ষার্থী থাকলেও তাদের পাঠদানের ভার বর্তমানে মাত্র তিনজন শিক্ষিকার কাঁধে।
বিদ্যালয়টিতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৬টি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়। ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের শিক্ষার্থীরা পড়তে আসে। তবে শিক্ষক সংকটে বর্তমানে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
জানা গেছে, বিদ্যালয়টি কাগজে-কলমে বন্দর উপজেলার অধীনে থাকলেও বাস্তবে এটি সোনারগাঁয়ের সাদিপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরেই এখানে শিক্ষক সংকট বিদ্যমান।
২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রধান শিক্ষক দুলাল মিয়া বদলি হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি বিদ্যালয়টিতে। বর্তমানে সহকারী শিক্ষিকা মমতাজ আক্তার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী সেখানে ৭ জন শিক্ষক থাকার কথা, তবে কোনো সময়ই ৫ জনের বেশি শিক্ষক ছিল না বিদ্যালয়টিতে। বর্তমানে ৪ জন শিক্ষিকা কর্মরত থাকলেও একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন এবং আরেকজনের বদলির আদেশ রয়েছে। ফলে কার্যত ৩ জন শিক্ষিকা দিয়েই চলছে পুরো বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম।
শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে, ফলে শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাই দ্রুত শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়টি বন্দর উপজেলা থেকে অনেক দূরে হওয়ায় যাতায়াত খরচ বেশি এবং দূরত্বের কারণে শিক্ষকরা এখানে থাকতে আগ্রহী হন না। ফলে নিয়োগ পেলেও অনেক শিক্ষক কিছুদিন পর বদলি হয়ে চলে যান।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমতাজ আক্তার বলেন, আমরা সীমিত জনবল নিয়েও শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি। তবে আরও শিক্ষক থাকলে শিক্ষা কার্যক্রম ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হতো। আমরা জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। শিগগিরই শিক্ষক নিয়োগের আশ্বাস পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজমল হোসেন বলেন, ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট সম্পর্কে আমরা অবগত। শিগগিরই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। আর তখনি আমরা ওই বিদ্যালয়ের শূন্য পদগুলো পূরণ করতে পারব।
২৩ ঘণ্টা আগে
প্রকৃতি ও মানবসৃষ্ট অব্যবস্থাপনার দ্বিমুখী ছোবলে দিশেহারা সুনামগঞ্জের কৃষক
সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওর জনপদ এখন পরিণত হয়েছে শোকের উপত্যকায়। একদিকে আকাশ থেকে নেমে আসা বজ্রের মরণঘাতী ছোবল, অন্যদিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের সারা বছরের অন্ন জোগানোর সম্বল বোরো ধান।
প্রকৃতি ও মানবসৃষ্ট পরিস্থিতির নিষ্ঠুরতায় দিশেহারা হাওরবাসী এখন এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে। বছরের পর বছর বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও তা রোধে সরকারি উদ্যোগগুলো যেন কেবলই লোক দেখানো।
সরকারি নথিতে বজ্রপাত প্রতিরোধে ২০১৮ সালে ১ লাখ এবং ২০২৪ সালে আরও দুই হাজার তালগাছ রোপণের তথ্য থাকলেও, বাস্তবে হাওরজুড়ে সেগুলোর কোনো চিহ্ন নেই। সঠিক পরিচর্যার অভাবে চারাগুলো বড় হয়ে ওঠার আগেই মরে গেছে।
কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো বজ্রনিরোধক দণ্ডেরও একই দশা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৮টি বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হলেও তা হাওরবাসীর কোনো কাজে আসছে না।
গত পাঁচ বছরে জেলায় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭২ জন। জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন শাখার তথ্যমতে, চলতি বছরে এপ্রিল পর্যন্তই অকালে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই বোরো মৌসুমে মাঠে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষক ও জেলেরা।
জেলা প্রশাসক মিনহাজুর রহমান জানান, তালগাছ রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে তদন্তের পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
তবে ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দোহাই দিয়ে আর কত লাশ পড়বে? তাদের দাবি, দ্রুত আধুনিক ও কার্যকর প্রযুক্তির ব্যবস্থা করাই এখন সময়ের দাবি। প্রকৃতির চরম বৈরিতার পাশাপাশি মানুষের তৈরি অব্যবস্থাপনা কৃষকের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।
এদিকে, গত সোম ও মঙ্গলবার রেকর্ড ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন স্থানে বুক সমান পানিতে তলিয়ে গেছে আধপাকা ধান। মাঠের অর্ধেক ধান এখনও অবিন্যস্ত। শ্রমিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়ায় হারভেস্টার মেশিনও অকেজো হয়ে পড়ায় অসহায় কৃষক নিজের চোখের সামনেই দেখছেন স্বপ্নের মৃত্যু।
জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওরের কবিরপুর গ্রামের কৃষক জায়েদ মিয়া জানান, ১৫ কেদার জমি আবাদ করেছিলেন। মাত্র ৫ কেদার জমির ফসল তুলতে পেরেছেন। গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে সব জমি তলিয়ে গেছে। কৃষি শ্রমিক সংকট থাকায় অনেক চেষ্টা করেও ফসল ঘরে আনতে পারেননি তিনি।
জগন্নাথপুর সদর গ্রামের আবুল হোসেন জানান, পিংলার হাওরে ১০ কেদার জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। এখন পর্যন্ত মাত্র ২ কেদারের ধান কাটা হয়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে কাটা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, হাওরে পানি ঢুকে ধান তলিয়ে যাচ্ছে। খুবই দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।
১ দিন আগে
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যত নিয়ে জালিয়াতি, ‘নির্বিকার’ কুমিল্লা বোর্ড
সাবিকুন নাহার ঝুমা। দশম শ্রেণিতে মেয়েটির রোল ছিল ১২। বিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থী নির্বাচনি পরীক্ষায় সকল বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়। এরপর চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার তোফাজ্জল হোসেন ঢালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
ঝুমার বাবা ফার্নিচারের কাজ করেন, মা গৃহিণী। প্রথম সন্তানের ফলাফল আসবে, এ নিয়ে উচ্ছ্বাসের সীমা ছিল না তাদের। তার ওপর সামনের সারির শিক্ষার্থী। জিপিএ ৫ পাওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার। কিন্তু বিধি বাম! ঝুমার ফলাফলই আসেনি।
অনেক খোঁজাখুঁজির পর ঝুমা আবিষ্কার করে, তার রোল নম্বরের জায়গায় ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের এক শিক্ষার্থীর ফল এসেছে। তাও তিন বিষয়ে অকৃতকার্য। মুহূর্তেই ঝুমার জীবনে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায় পুরো পরিবারের।
এ নিয়ে মতলব দক্ষিণের বাসিন্দা এই শিক্ষার্থীর পরিবারে হাহাকার নেমে এলেও তাদের কর্তৃপক্ষ কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড এখনও নির্বিকার অবস্থায় রয়েছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তা বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে দিয়েছেন। নামমাত্র তদন্ত কমিটি হলেও তাতে কমিটির সদস্যদের শুধু সই নেওয়া হয়েছে, বিস্তারিত তাদেরও জানানো হয়নি।
তবে ঝুমার পরিবার প্রতিবাদ করতেই বেরিয়ে আসে অন্য গল্প। শুধু ঝুমা নয়, এমন আরও ২০ জনের ফলাফলে গরমিল দেখা গেছে। তারা যে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরে পরীক্ষা দিয়েছিল, সেই রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের ফল আসে অন্য শিক্ষার্থীদের, যাদের কেউই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি।
ঝুমার মা শাহিদা আক্তার জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কয়েকবার কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে যান তারা। তদন্ত শেষে ২০ জনের ফল পরিবর্তনও হয়, ফল পরিবর্তন হয়নি শুধু তার মেয়ের।
তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের একটা বছর নষ্ট হলো। সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ল। এর দায় কে নেবে?’
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ২০১৩ সালে আলহাজ তোফাজ্জল হোসেন ঢালী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের খাদেরগাঁও গ্রামে অবস্থিত। ওই ইউনিয়নের প্রথম বিদ্যালয় এটি। বিদ্যালয়টি নিয়ে গ্রামের সবার স্বপ্ন ছিল আকাশ ছোঁয়া।
বিদ্যালয়টির দাতা সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, এক একর জমির ওপর এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত। আমি এখানে ২২ শতাংশ জায়গা দান করি। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর দারুণভাবে চলছিল। এখানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে ২০২২ সালে যোগ দেন মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম। আগে তিনি এ প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষক হিসেবে ভালোই ছিলেন, তবে প্রধান শিক্ষক হওয়ার পর তার মাথায় লোভ কাজ করা শুরু করে। তিনি রাত ১১টা পর্যন্ত অফিস কক্ষে বসে থাকতেন। কোনো কাজই অন্যদের দিয়ে করাতেন না।
বিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জাহাঙ্গীর ঢালীর দাবি, প্রধান শিক্ষক জালিয়াতি করে নিয়মিত ২০ শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণ করেননি। তার পরিবর্তে টাকা খেয়ে তিনি অন্য দুর্বল ও অনিয়মিত ২০ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ ও রেজিস্ট্রেশন করেন। অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্রকে ফটোশপে এডিট করে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের নাম-পরিচয় বসিয়ে দেন। এটা দিয়েই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, যার কারণে ফল আসে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা দুর্বল ও অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের।
তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই বোর্ডকে জানাই। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুবার বোর্ডে যাই। বোর্ড পরবর্তীতে আগের ফল বাতিল করে নতুন ফল দেয়।’
এদিকে, সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু সাবিকুন নাহার ঝুমা নয়, খাদিজা আক্তার নামে বিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থীও জালিয়াতির শিকার হয়েছেন। তারও ফল শেষ পর্যন্ত পরিবর্তন হয়নি।
বিদ্যালয়টির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন বলেন, ২০২৫ সালে ৭৪ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে ২০ জনের ফলে এমন গরমিল দেখা দেয়। এবার ৯৯ জন পরীক্ষা দিচ্ছে। আমরা প্রতিষ্ঠানের সম্মান ফেরাতে কাজ করছি। এ ঘটনায় বোর্ড একটি তদন্ত করেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে আরও একটি তদন্ত চলছে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডেরও দায় আছে। এক-দুজন নয়, একই প্রতিষ্ঠানের ২০ জন শিক্ষার্থী অন্যের রোল-রেজিস্ট্রেশন নম্বরে পরীক্ষা দিয়েছেন, প্রাথমিক অবস্থায় বোর্ডের তা দৃষ্টিগোচর হয়নি। পুরো বোর্ডে এমন অসংখ্য জালিয়াতি হতে পারে।
তারা আরও বলেছেন, বোর্ড কর্তৃপক্ষ এতবড় জালিয়াতির ঘটনায় কী তদন্ত করেছেন, তদন্তের ফলাফল কী, তা স্পষ্ট করেননি। বোর্ড থেকে ওই বিদ্যালয়ের কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি; ফেরত দেওয়া হয়নি বঞ্চিত একাধিক শিক্ষার্থীর ফলাফল।
তাদের দাবি, তদন্ত কমিটিতে যে ছয়জন রয়েছেন, তদন্তের ফলাফলের অনুলিপি তাদের সরবরাহ করা হয়নি। ইংরেজি ‘এস’ অদ্যাক্ষরের দুই কর্মকর্তার এতে যোগসাজস রয়েছে।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত সাবেক প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক রুনা নাছরীন বলেন, ‘এ ঘটনায় একমাত্র অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক। স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রধান শিক্ষক এমনভাবে জালিয়াতি করেছেন যা কল্পনাকেও হার মানায়। তিনি রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর যেভাবে নকল করেছেন, তা যে কারও পক্ষে ধরা মুশকিল। তারপরও তদন্তের পর যে কয়জনের খাতা পাওয়া গেছে, তাদের ফল সংশোধন করা হয়েছে। যাদের পাওয়া যায়নি, তাদেরটা সংশোধন করা যায়নি।’
১ দিন আগে
জ্বালানি সংকট, দুর্যোগে হাওরের বোরো আবাদ বিপর্যস্ত
জ্বালানি তেলের সংকট, অতিবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বোরো আবাদ। এর মধ্যে বাজারে কাঁচা ধানের দাম নেমে এসেছে প্রতি মণ ৭০০ টাকায়, যা সরকারের নির্ধারিত দামের অর্ধেকেরও কম।
স্থানীয় আড়তগুলোতে বোরো ধান ৭০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকারিভাবে প্রতি কেজি ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ টাকা, অর্থাৎ প্রতি মণ ১ হাজার ৪৪০ টাকা। মাঠপর্যায়ে কৃষকরা আরও কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক স্থানে এখনও পানি নামেনি, কোথাও কোথাও পানি বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, ফলে যান্ত্রিকভাবে ধান কাটা ব্যাহত হচ্ছে।
জেলার প্রধান বোরো উৎপাদন এলাকা বানিয়াচং উপজেলায় ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ২৭ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ কম।
বানিয়াচং সদরের ধান-চাল ব্যবসায়ী বিসমিল্লাহ স্টোরের স্বত্বাধিকারী সুমন আহমদ জানান, তারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৭০০ টাকা মণ দরে ধান কিনছেন। তবে কৃষকদের কাছ থেকে তা আরও কম দামে সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সরকারি হিসেবে, জেলায় ৯টি উপজেলায় মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০৪ হেক্টর কম। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ৪৬ হাজার ৯৫৪ হেক্টর এবং বানিয়াচং উপজেলায় সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।
বানিয়াচং উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা অলক কুমার চন্দ জানান, উপজেলায় ১০৬টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার লিটার জ্বালানির প্রয়োজন হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ১ হাজার লিটার। এতে হারভেস্টারগুলো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি জমিতে পানি থাকায় অনেক ক্ষেত্রে যন্ত্র নামানো যাচ্ছে না।
কৃষকরা জানান, ফুয়েল কার্ড থাকা সত্ত্বেও পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে তারা বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে জ্বালানি কিনছেন।
কুমড়ী গ্রামের কৃষক শহীদ চৌধুরী বলেন, ‘তেল সংকট ও জমিতে পানির কারণে ধান কাটতে চরম সমস্যায় পড়েছি। পাম্প থেকে এক ফোঁটা তেলও পাইনি।’
এদিকে, বন্যার আশঙ্কায় হাওরাঞ্চলে দ্রুত ধান কাটার জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে হাওরের প্রায় ৮০ শতাংশ ধান হারভেস্টারের মাধ্যমে কাটা হলেও চলতি মৌসুমে জ্বালানি সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জেলা কৃষি পুনর্বাসন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলার ৬টি উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমির বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বানিয়াচংয়ে ২৪৮ হেক্টর, আজমিরীগঞ্জে ১৫৪ হেক্টর, হবিগঞ্জ সদরে ৯০ হেক্টর, লাখাইয়ে ২৫ হেক্টর, নবীগঞ্জে ২০ হেক্টর এবং চুনারুঘাটে ১৯ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাওরাঞ্চলের বোরো উৎপাদন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
২ দিন আগে
তিস্তা প্রকল্পে ৬০ কোটি টাকার ডিজেল সাশ্রয়, সুফল পাচ্ছেন ১০ লাখ কৃষক
দেশের উত্তরাঞ্চলের চার জেলার কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে তিস্তা সেচ প্রকল্প। জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ সংকটে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সেচ কার্যক্রম বিঘ্নিত হলেও এই প্রকল্পের মাধ্যমে নির্বিঘ্নে পানি পাওয়ায় স্বস্তিতে আছেন কৃষকরা। এতে উৎপাদন বৃদ্ধিরও প্রত্যাশা করছেন তারা।
চলমান বোরো মৌসুমে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দেশের অনেক স্থানে সেচ কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। আর এই সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৬০ কোটি টাকার ডিজেল সাশ্রয় হচ্ছে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান।
তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় উত্তরের চার জেলার প্রায় ১০ লাখ কৃষক কোনো ধরনের বাড়তি ভোগান্তি ছাড়াই বোরো আবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। ডিজেল ও বিদ্যুচ্চালিত সেচের তুলনায় সাশ্রয়ী ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হওয়ায় প্রতি বছরই এ প্রকল্পের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা। ফলে প্রতি বছরই বাড়ছে আবাদি জমির সংখ্যা। যদি তিস্তা খনন করে এই খালগুলোর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা হয় তবে কৃষকরা সুবিধা পাবেন, আর উৎপাদনও কয়েক গুণ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
রংপুর পাউবোর উপপ্রধান সম্প্রসারণ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি (২০২৫-২৬) বোরো মৌসুমে উত্তরের চার জেলার মোট ১২ উপজেলার ৫০ হাজার হেক্টর জমি তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় এসেছে। প্রকল্পের আওতায় নীলফামারী জেলার পাঁচটি উপজেলায় (সদর, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর) ৩২ হাজার হেক্টর, দিনাজপুর জেলার তিনটি উপজেলায় (খানসামা, চিরিরবন্দর ও পার্বতীপুর) ৬ হাজার হেক্টর, বগুড়ায় ২৩ হাজার হেক্টর এবং রংপুর জেলার চারটি উপজেলায় (সদর, গংগাচড়া, তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ) ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। তিস্তা নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে বিভিন্ন খালের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সরজমিনে দেখা যায়, গঙ্গাচড়া উপজেলার সয়রা বাড়ি ও বাকপুর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার খালের মাধ্যমে তিস্তা নদীর পানি এনে প্রায় ১৩০ একর জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে নদীতে ৮ থেকে ৯ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহিত হচ্ছে, গত বছরের এ সময়ে যা ছিল মাত্র ৩ হাজার কিউসেক।
তিস্তা প্রকল্পের সেচব্যবস্থায় সন্তুষ্ট স্থানীয় কৃষকরা। এ বিষয়ে গংগাচড়ার বড়বিল ইউনিয়নের কৃষক আব্দুস সালাম জানান, অন্য উৎস থেকে এক একর জমিতে সেচ দিতে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। তবে তিস্তা প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে মাত্র ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় সেচ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি এক একর জমিতে ৮৫ থেকে ৯০ মণ ফলনের আশা করছেন।
কৃষকদের মতে, তিস্তার পানিতে থাকা পলি মাটির উর্বরতা বাড়ায়।
আলমবিদিতর ইউনিয়নের পানি ব্যবস্থাপনা দলের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী বলেন, তিস্তার পানিতে পলি থাকায় জমিতে একটি আস্তরণ তৈরি হয়, যা দীর্ঘক্ষণ পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। এতে গাছের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত হওয়ায় রাসায়নিক সারের ব্যবহার অনেক কমে আসে। ফলে অন্য সেচ ব্যবস্থার তুলনায় এখানে বিঘাপ্রতি তিন-চার মণ ফলন বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে, তিস্তা প্রকল্পের সুবিধার পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বাকপুর পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মালেক জানান, ফেব্রুয়ারির আগে পানি না পাওয়ায় অনেককে বীজতলা তৈরির সময় বিকল্প উৎস ব্যবহার করতে হয়েছে। এছাড়া কাঁচা খালে ইঁদুরের গর্ত এবং উঁচু-নিচু জমিতে পানি পৌঁছানোর সমস্যাও রয়েছে।
অপরদিকে, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় কিছু খালের সংস্কারকাজের জন্য সাময়িকভাবে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। জানুয়ারির শুরু থেকেই পানি সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ বিদ্যমান সমস্যা দূর করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পাউবো রংপুরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘তিস্তা সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৬০ কোটি টাকার ডিজেল সাশ্রয় হচ্ছে। চৈত্র মাসে আগাম বৃষ্টির কারণে এবার নদীতে পানি বেশি, জলবায়ু পরিবর্তনের সুফল পাচ্ছেন কৃষকরা।’
সেচের সময় এগিয়ে আনার দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধান, তামাক, ভুট্টাসহ ভিন্ন ভিন্ন ফসলের কারণে সেচের সময় সমন্বয় করতে হয়। কৃষকরা যদি একই ধরনের ফসল আবাদ করেন, তবে এ সমস্যা নিরসন সম্ভব। বেশকিছু খালের সংস্কারকাজ চলায় এ বছর জমির পরিমাণ আর বাড়ানো সম্ভব হয়নি, তবে আগামী দুই মাস এ সরবরাহ অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
৫ দিন আগে
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি: নবায়নের আগে প্রয়োজন ‘বড় ধরনের সংস্কার’
চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে চলা বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তিটি নবায়নের আগে এর ‘সার্বিক পর্যালোচনা ও সংস্কার’ প্রয়োজন। এ বিষয়ে পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অর্থনীতিবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, সমাজবিজ্ঞানী ও পরিবেশবাদীদের অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। কারণ সঠিকভাবে বণ্টন না হলে এর ঝুঁকি বাংলাদেশের ওপরই বেশি পড়বে।
ইউএনবির সঙ্গে আলাপকালে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহাব এনাম খান বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে প্রচুর কাজ (হোমওয়ার্ক) করতে হবে এবং তথ্য বিনিময়ই এখানে মূল বিষয়। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ১৯৯৬ সাল আর ২০২৬ সালের পরিস্থিতি এক নয়। বিষয়টিকে কেবল প্রকৌশল বা কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে চলবে না; পরিকল্পনায় অর্থনীতিবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’
ঝুঁকি কোথায়?
ঢাকার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যদি নতুন কোনো চুক্তি না হয়, তবে বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং জলবায়ুগত ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সই হয়। ফলে চলতি বছরই এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তবে চুক্তিটি সংশোধন ও নবায়নের সম্ভাব্য বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনো আলোচনা শুরু হয়নি।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার মতো আরও ৫৪টি অভিন্ন নদ-নদী রয়েছে। এ সংক্রান্ত সব বিষয় আলোচনার জন্য দুই দেশের মধ্যে ‘যৌথ নদী কমিশন’ নামক একটি দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, যেহেতু উভয় পক্ষই সম্পর্ক পুনর্গঠনে আগ্রহী, তাই গঙ্গার পানি বণ্টনে একটি ‘ন্যায্য ও জলবায়ু-সহিষ্ণু’ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে এই সম্পর্কের অন্যতম প্রথম পরীক্ষা।
ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং ইতোপূর্বে দেশটির লোকসভায় জানিয়েছেন যে, খাবার পানি ও শিল্প কারখানার পানির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারসহ সব অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে, যা ভারত সরকারের অবস্থান নির্ধারণে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
একটি কূটনৈতিক সূত্র ইউএনবিকে জানায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একজন অনুমোদিত প্রতিনিধি ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর, ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ ও ৩১ মে এবং ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভাগুলোতে অংশ নেন, যেখানে ভারতের পক্ষ থেকে একটি সম্মিলিত অবস্থান তৈরি করা হয়।
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রকাশ্য টানাপোড়েন থাকলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে যৌথ নদী কমিশনের আওতায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট পানিবিষয়ক সকল কারিগরি সভা অব্যাহত রয়েছে।
সংস্কার ও নবায়নের আহ্বান
বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্সের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক শাহাব বলেন, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য গঙ্গা চুক্তি নবায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি সংশোধন করতে হবে। এর সহজ কারণ হলো, চুক্তিটি প্রায় তিন দশক আগে করা হয়েছিল।’
চুক্তিটি যখন স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তখন জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উদ্ভূত বহুমাত্রিক সমস্যাগুলো বর্তমানের মতো এতটা স্পষ্ট ছিল না, যা চুক্তির মূল পাঠে প্রতিফলিত হয়েছে। এই চুক্তিতে ‘জলবায়ু-সহিষ্ণু পরিবর্তনের’ পক্ষে যারা মত দিচ্ছেন, অধ্যাপক শাহাব তাদের অন্যতম।
এই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ বলেন, বর্তমান সময়ে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ভূ-প্রকৃতি এবং অবশ্যই জলবায়ু-সংক্রান্ত ইস্যুগুলো বদলে গেছে। তাই বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ভিত্তিতে চুক্তিটি পর্যালোচনা করতে হবে।
তিনি জোরালোভাবে পরামর্শ দেন যে, যৌথ নদী কমিশনকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক তথ্য বিনিময়ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে চুক্তিটি সম্পন্ন করা উচিত। এটি দুই দেশের মধ্যে ‘হাইড্রো-ডিপ্লোমেসি’ বা পানি-কূটনীতি এবং পানি ব্যবস্থাপনা ও বণ্টনের ক্ষেত্রে আস্থা বৃদ্ধি করবে।
তিনি আরও বলেন, ‘কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে আমাদের কেবল কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়, বরং প্রকৌশল, বিজ্ঞান এবং অবশ্যই অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অংশ নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
অধ্যাপক শাহাবের মতে, বিষয়টিকে কেবল কূটনীতি বা প্রকৌশল বিদ্যার ওপর ছেড়ে দিলে কোনো সামগ্রিক সমাধান পাওয়া যাবে না।
‘এই কারণেই আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ সরকারের যথেষ্ট কাজ (হোমওয়ার্ক) করা উচিত, যেখানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ— অর্থনীতিবিদ, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী এবং বিশেষ করে সমাজবিজ্ঞানীদের যুক্ত করা প্রয়োজন,’ উল্লেখ করে তিনি বলেন যে পরিবেশবাদীদেরও এতে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
অধ্যাপক শাহাব বলেন, ‘পানিকে কেবল পানি, অথবা কেবল কূটনৈতিক বা আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার ধারণাটি একটি পুরনো এবং সেকেলে পদ্ধতি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি দুই দেশের মধ্যে বাস্তববোধ কাজ করে, তবে তারা অবশ্যই একটি সমগ্রিক পর্যালোচনা ও সংস্কারের মাধ্যমে এমন একটি চুক্তির দিকে যাবে, যা এই সহস্রাব্দে জলবায়ু পরিবর্তনসহ অন্যান্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।’
মরিশাসে নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছিলেন, জনগণের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করে এমন একটি নতুন বা সংশোধিত চুক্তি দেখতে চায় বাংলাদেশ।
সম্মেলনের ফাঁকে এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এগুলো অভিন্ন নদী এবং এখানে আমাদের অভিন্ন ঐতিহ্য ও স্বার্থ রয়েছে। আমি যেমনটি বলেছি, একটি টেকসই এবং জন-আস্থার প্রতিফলন ঘটায় এমন সমাধান খুঁজে বের করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। আগামী ২৫ থেকে ৫০ বছরের সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপনের জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর ইতোমধ্যে পার হয়েছে। তাই আমি মনে করি না যে আমাদের কেবল ৫ বা ১০ বছরের কথা ভাবা উচিত; আমাদের দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করতে হবে। তাই আমাদের পররাষ্ট্রনীতি বা বলা ভালো, জনকল্যাণমূলক নীতিতে পারস্পরিক জলবায়ু সহিষ্ণুতাকে অগ্রাধিকার দেওয়াই হবে ভবিষ্যতের মূল চালিকাশক্তি।’
৫ দিন আগে
ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে কুড়িগ্রামের জলাংকারকুঠির চর, ঝুঁকিতে একমাত্র স্কুল
ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার জলাংকারকুঠির চর অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এতে চরের প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। একইসঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে চরের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ’ স্কুল।
চরটি উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ও বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের সীমান্তে অবস্থিত। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এসব পরিবার নিজেদের ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে এই দুর্গম চরে আশ্রয় নিয়েছে।
উলিপুরের হাতিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখানে বসবাস করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থার তেমন কোনো সুযোগ না থাকলেও তারা সংগ্রাম করে টিকে আছে।
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে স্থানীয় উদ্যোগে ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ’ স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাঁশ ও টিনে নির্মিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। আশপাশের চরাঞ্চল থেকেও শিশুরা এখানে পড়তে আসে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্রহ্মপুত্রের তীব্র স্রোত ও ভাঙনে চরটির আয়তন দ্রুত কমে আসছে। ইতোমধ্যে বসতঘরের পাশ ঘেঁষে ভাঙন শুরু হয়েছে এবং নদী ধীরে ধীরে বিদ্যালয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এতে যে কোনো সময় স্কুলসহ পুরো বসতি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, নদীভাঙনের কারণে তাদের স্কুলটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করছে তারা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু সাইদ ও এনামুল হক বলেন, চরের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এখন চরম ঝুঁকিতে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এটি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।
চরের গৃহবধূ রজিবা বেগম বলেন, আগে বাচ্চাদের পড়াশোনার সুযোগ ছিল না। এখন স্কুল হয়েছে, কিন্তু ভাঙন বন্ধ না হলে সেটিও টিকবে না।
এদিকে, চরের বাসিন্দা হায়দার আলী ও আবু বক্করসহ আরও কয়েকজন জানান, নদীভাঙনে তারা আগেই জমিজমা হারিয়েছেন। এখন আবারও উচ্ছেদের আশঙ্কায় দিন কাটছে তাদের।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, চরে ভাঙন রোধে স্থায়ীভাবে কাজ করার নির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। তবে আবেদন পেলে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জলাংকারকুঠির চর বিলীন হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি একটি প্রজন্ম শিক্ষার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হবে।
৫ দিন আগে
পন্টুন সংকটে চাঁদপুরের পুরানবাজার, ঝুঁকিতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শ্রমিক জীবন
চাঁদপুরের বাণিজ্যিক হাব পুরানবাজারে মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীতে পর্যাপ্ত পন্টুন না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও দিনমজুররা। এতে ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
পুরানবাজারের নদীপাড়ের বিভিন্ন ঘাটে দীর্ঘদিন ধরে পন্টুনের অভাব রয়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে মালামাল লোড-আনলোড করতে হচ্ছে শ্রমিকদের। ইতোমধ্যে এ কাজে গিয়ে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রবীণ ব্যবসায়ীরা জানান, ব্রিটিশ আমল থেকে পুরানবাজার চাঁদপুরের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীসংলগ্ন ভূঁইয়ার ঘাট দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আমদানি-রপ্তানিকৃত পণ্য লোড-আনলোড করা হয়। তবে বর্তমানে সেখানে মাত্র একটি পন্টুন রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে নদীর পানি কমে গেলে পন্টুনটি প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ে। নদীর পাড় প্রশস্ত হয়ে যাওয়ায় ট্রলার বা জাহাজ থেকে গুদামে মালামাল পরিবহনে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ বিষয়ে প্রবীণ চাল ব্যবসায়ী নকীব চৌধুরী, মাইনুল ইসলাম কিশোর, নাজমুল আলম পাটোয়ারী এবং লবণ ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায় জানান, পুরানবাজারের ব্যবসা সম্প্রসারণে ২০১৭ সালের মে মাসে বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালকের কাছে দেওয়ানঘাট, ১ নম্বর ঘাট এবং জনতা লবণ মিল-সংলগ্ন এলাকায় তিনটি পন্টুন স্থাপনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। সে সময় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
তিনি আরও বলেন, পন্টুনের অভাবে শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জনস্বার্থে দ্রুত নতুন পন্টুন স্থাপন জরুরি।
চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নাজমুল আলম পাটোয়ারী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
জনতা লবণ মিলসের মালিক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ভূঁইয়ার ঘাটের পন্টুনটি পুরানবাজারের ব্যবসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এখান দিয়েই অধিকাংশ পণ্য লোড-আনলোড হয়। তাই দ্রুত নতুন পন্টুন স্থাপন প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বন্দর কর্মকর্তা কামরুজ্জামান জানান, বিষয়টি তিনি নতুনভাবে জেনেছেন। শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং সেখানে জেটি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের আশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে পুরানবাজারের বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমে আসবে।
বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলার সবচেয়ে ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র পুরানবাজারে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০ কোটি টাকার চাল, ডাল, লবণ, তেল, চা পাতা, ভুষিসহ বিভিন্ন পণ্যের লেনদেন হয়। ব্রিটিশ আমল থেকেই নৌপথ, রেলপথ ও সড়কপথে এই বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
৬ দিন আগে
ইরান যুদ্ধের আঁচ: তাপপ্রবাহের মাঝে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ ঝিনাইদহবাসী
বৈশাখের তীব্র তাপদাহে যখন প্রাণীকূলের জীবন হাঁসফাঁস করছে, তখন তীব্র লোডশেডিংয়ের ফলে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। আর এই বিপর্যয় নিয়ে দুঃসহ দিন পার করছেন ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ ও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) লাখো গ্রাহক।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার প্রভাব প্রকট হয়ে উঠেছে জেলাজুড়ে। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে ঝিনাইদহের কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম।
জানা গেছে, ঝিনাইদহের পল্লী বিদ্যুৎ ও ওজোপাডিকোর মোট চাহিদা ১২৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ৭৫ মেগাওয়াট ও ওজোপাডিকোর ৫৪ মেগাওয়াট। কিন্তু এই দুই দপ্তর মিলে পাচ্ছে মাত্র ৭৭ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকছে ৫২ মেগাওয়াট।
ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) প্রকৌশলী নাজমুন নাহার জেরিন জানান, ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় বর্তমানে গ্রাহকের সংখ্যা ৪ লাখ ৪৫ হাজার ২৬৪। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক রয়েছেন ৩ লাখ ৯৯ হাজার ১২৬, বাণিজ্যিক ২৫ হাজার ৮৪৫, সেচ পাম্প ১০ হাজার ৮৯৫, হাসপাতাল ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫ হাজার ৬৭০ এবং শিল্প ও অন্যান্য স্থাপনায় ৩ হাজার ৭২৮টি সংযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কিছুটা কম পাওয়া যাচ্ছে। ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাহিদা ৭৫ মেগাওয়াট, কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে ৩৮ থেকে ৫৪ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ফিডারে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা করে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
ইহছানুল ইসলাম নামে পল্লী বিদ্যুতের এক গ্রাহক বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রামের মানুষ প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। টানা বিদ্যুৎ বন্ধ না করে রেশনিং পদ্ধতি ও সমতার ভিত্তিতে গ্রামে গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বহাল রাখার দাবি জানান তিনি।
সাবেক অধ্যক্ষ সায়েদুল ইসলাম জানান, বিদ্যুতের ঘাটতিতে জনজীবনে দুর্ভোগ ও ক্ষোভ তীব্র হচ্ছে। গরমে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় চরম বিঘ্ন ঘটছে। অনেক এলাকায় টানা এক ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না। মানুষ বুঝতে চাচ্ছে না এই দুর্ভোগ যুদ্ধের কারণে হচ্ছে।
ঝিনাইদহ চেম্বার অ্যান্ড কমার্সের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, জেলার ছোটবড় কলকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন উদ্যোক্তারা।
ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় তারা এলাকাভেদে লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিস্থিতির উন্নতি কবে হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো বার্তা দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ওজোপাডিকোর ঝিনাইদহ সরবরাহ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দ্বীন মোহাম্মদ মহিম জানান, ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় তাদের গ্রাহক সংখ্যা ১ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৫। ব্যস্ত সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা থাকে প্রায় ৫৪ থেকে ৬০ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩৯ মেগাওয়াট। জেলা শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ওজোপাডিকোর প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহকের বিপরীতেও চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি অনেক কম। ফলে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকছে মানুষ।
৯ দিন আগে
কুড়িগ্রামে বিদেশি আঙুর চাষে দুই উদ্যোক্তার সাফল্য দেশব্যাপী সাড়া ফেলেছে
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় বিদেশি প্রজাতির (বাইকুনুর) লাল আঙুর চাষ করে সফলতা পেয়েছেন দুই কৃষি উদ্যোক্তা রুহুল আমীন ও হাসেম আলী। তাদের এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, কৃষকদের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার আশা জাগিয়েছে।
উপজেলার গংগাহাট বাজারসংলগ্ন আজোয়াটারী এলাকায় দুই বিঘা জমিতে প্রায় এক দশকের পরিশ্রমে গড়ে উঠেছে তাদের আঙুর বাগান। বর্তমানে সেখানে ৪৬০টি বাইকুনুর জাতের আঙুরলতা রয়েছে।
উদ্যোক্তারা জানান, ২০১৭ সালে মাত্র ৪০টি চারা দিয়ে তারা যাত্রা শুরু করেন। শুরুতে সামান্য ফলন এলেও ২০২২ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর বিক্রি শুরু করেন তারা। ওই বছর ৫০টি গাছ থেকে প্রায় ৫ মণ আঙুর বিক্রি হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ১০ মণ, ২০২৪ সালে ১৫ মণ এবং ২০২৫ সালে ২০ মণ আঙুর বিক্রি করা হয়। চলতি বছর ৬০টি গাছ থেকে ৪০ থেকে ৪৫ মণ আঙুর উৎপাদনের আশা করছেন তারা, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা হবে বলে ধারণা তাদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাগানে বাইকুনুর ছাড়াও বিভিন্ন বিদেশি জাতের আঙুরের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় তিন শতাধিক ফলজ গাছ রয়েছে। বাগানটি এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের মানুষের কাছেও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আগ্রহীরা এখান থেকে আঙুরের চারা সংগ্রহ করছেন।
১০ দিন আগে