বিশেষ সংবাদ
চোখের সামনেই নদীগর্ভে বিলীন বসতবাড়ি, অসহায় তিস্তাপাড়ের মানুষ
উত্তরের পাঁচ জেলায় আগ্রাসী হয়ে উঠেছে তিস্তার ভাঙন, জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলেও প্রতিরোধ গড়ে তোলা যাচ্ছে না। গত সাত দিনে রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিহাট, নীলফামারী ও কুড়িগ্রাম জেলায় তিস্তার ভাঙনে ৩৮৬টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
পাউবো রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেছেন, শুধু ভাঙনেই থেমে নেই, এই পাঁচ জেলার ১১৩টি পয়েন্টে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এই কর্মকর্তা বলেন, ভাঙন প্রতিরোধে তেমন কোন বরাদ্দ না থাকায় ঠেকানো যাচ্ছে না। আমরা মন্ত্রণালয়ের বিষয়টি জানিয়েছি।
তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
সম্প্রতি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের সিংগীজানী ও ভোরের পাখি এলাকায় হঠাৎ ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।
স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে তিস্তা নদীতে স্রোতের চাপ বাড়ছিল। হঠাৎ স্রোতের তীব্রতা বেড়ে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই নদীর পাড়ের মাটি ধসে পড়তে থাকে। একপর্যায়ে একের পর এক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
ভাঙন এতটাই আকস্মিক ছিল যে অনেক পরিবার ঘরের আসবাবপত্র, ধান-চাল, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পায়নি। চোখের সামনে বসতভিটা ও ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হতে দেখে অসহায় হয়ে পড়েন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা তিস্তার ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে আসছেন। কেউ কয়েকবার বসতভিটা পরিবর্তন করেছেন, আবার কেউ নদীর পাড়ে নতুন করে ঘর তুলেছেন। কিন্তু এবার আকস্মিক ভাঙনে অনেকের সেই শেষ আশ্রয়টুকুও নদীতে চলে গেছে।
২ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রামীণ সড়ক বেহাল, দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের মানুষ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দায়পুকুরিয়া ইউনিয়নের কামালপুর থেকে মির্জাপুর হয়ে কর্ণখালী পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের মানুষ। সড়কটিতে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ।
বর্ষায় সড়কটি আরও বেহাল হয়ে গেছে। বৃষ্টিতে সড়কটির বিভিন্ন অংশের পিচ উঠে গিয়ে কোথাও কোথাও পানি জমে থাকছে ৫ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত। এতে রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, কৃষিপণ্য বাজারজাতসহ প্রতিদিনের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দায়পুকুরিয়া ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি স্থানীয়দের চলাচলের অন্যতম প্রধান পথ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন অংশের পিচ উঠে গেছে। বর্ষা মৌসুমে খানাখন্দে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এতে যানবাহন চলাচল যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, তেমনি পথচারীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
৩ দিন আগে
বিদ্যালয় স্থানান্তর নিয়ে যমুনার চরাঞ্চলে বিরোধ, পাঠদান ব্যাহত
গাইবান্ধার ফুলছড়িতে নদীভাঙনের শিকার আংগারিদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্থানান্তর নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। জিয়াডাংগা চরের নির্জন বালুচরে একটি টিনের ছাপড়া ঘরে একসঙ্গে তিন শ্রেণির পাঠদান চলছে। খোলা আকাশের নিচে প্রচণ্ড রোদ-বৃষ্টির মধ্যেও পাঠদানের কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। অনিশ্চয়তায় পড়েছে চরাঞ্চলের কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা।
ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ১৯৪৬ সালে আংগারিদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর অব্যাহত ভাঙনে বিদ্যালয়টি অন্তত ১২ বার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যা ও নদীভাঙনের পর গজারিয়া ইউনিয়নের আংগারিদহ এলাকায় বিদ্যালয়টি পুনঃস্থাপন করা হয়। কিন্তু চলতি বছরের বন্যা ও নদীভাঙনে বিদ্যালয়টি আবারও স্থানান্তর করতে হয়। যমুনার ভাঙনের মুখে ভবন, শিক্ষা উপকরণ, চেয়ার-টেবিল, বেঞ্চ ও টিনের চালা খুলে পাশের জিয়াডাংগা চরের এক কোণে নিয়ে স্থাপন করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যালয়টি জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে নির্জন বালুচরের এক কোণে স্থাপন করেছে। এ নিয়ে স্থানীয় অনেকে আপত্তি জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, কয়েকটি পরিবার ব্যক্তিস্বার্থে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কায় শিক্ষকরা জিয়াডাংগা চরের ওই স্থানে ছাপড়া তুলে পাঠদান শুরু করেন। অন্যদিকে, জিয়াডাংগা চরের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিদ্যালয়টি স্থাপন না করায় স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। দুটি পক্ষের শক্তি প্রদর্শনের কারণে বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে না। অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
শিক্ষকদেরও নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকার অভিযোগ রয়েছে। একটি টিনের ছাপড়া ঘরে একসঙ্গে তিন শ্রেণির পাঠদান করায় স্বাভাবিকভাবে পাঠদান করা সম্ভব হচ্ছে না। উত্তপ্ত বালুচর ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে।
বিদ্যালয় স্থানান্তর নিয়ে জটিলতার মধ্যে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানসহ উপজেলা শিক্ষা কমিটির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা জিয়াডাংগা মসজিদের পাশে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিদ্যালয়টি স্থাপনের সুপারিশ করেন।
তবে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিদ্যালয়টি সেখানে স্থানান্তরে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে বেশ কিছুদিন ধরে বালুচরের একটি ছাপড়া ঘরে একসঙ্গে তিন শ্রেণির পাঠদান চলছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে গজারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলী থান খুশু বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়টি জিয়াডাংগা মসজিদের পাশে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে বাধা দেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।
৪ দিন আগে
সুন্দরগঞ্জে তিস্তার পেটে ২৫০ ঘরবাড়ি; খোলা আকাশের নিচে কাটছে জীবন
তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে মাত্র দুই দিনে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অন্তত ২৫০টি ঘরবাড়ি ও জমিজমা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বসতভিটা হারিয়ে কাপাসিয়া, ভোরের পাখি ও লালচামার এলাকার বহু পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে রাত-দিন কাটাচ্ছে। ঘরে খাবার নেই, মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই—নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো এসব মানুষের জীবন এখন মানবেতর।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই ঘরের চাল বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পাননি। সর্বস্ব হারিয়ে কেউ নদীর পাড়ে, কেউ খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। শিশু, নারী ও বয়স্কদের নিয়ে তাদের দিন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়।
খাবারের সংকট দেখা দেওয়ায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে নদীভাঙনে বাস্তুহারা মানুষের জন্য প্রতিদিন খিচুড়ি সরবরাহ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপির পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্তদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভাঙনের খবর পেয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির মাজেদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চাল বিতরণ করেছেন।
এদিকে, নদীভাঙনে শুধু বসতভিটাই নয়, হারিয়ে যাচ্ছে চরাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে চলতি বছরে গাইবান্ধার চরাঞ্চলের অন্তত আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরও ছয়টি বিদ্যালয় রয়েছে ভাঙনের ঝুঁকিতে।
চরাঞ্চলের বালুচরে একসময় যেখানে ছিল বিদ্যালয় ভবন, শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ-টেবিল আর শিক্ষার্থীদের কোলাহল, এখন সেখানে শুধু নদীর পানি। ইতোমধ্যে ফুলছড়ি উপজেলার আঙ্গারীদহ, উত্তর খাটিয়ামারি, চর চৌমোহন, সদর উপজেলার সীতাসতী এবং সুন্দরগঞ্জের ভোরের পাখিসহ আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনে সম্পূর্ণ বিলীন হয়েছে।
ভবন হারানো আটটি বিদ্যালয়ের কোথাও খোলা আকাশের নিচে, আবার কোথাও টিনের ছাপড়া তুলে চলছে পাঠদান। রোদবৃষ্টি ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসছে না। কোথাও একটি ছাপড়ার নিচে দুই শ্রেণির মাত্র চারজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে চলছে পাঠদান। এতে দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর পড়ালেখা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
তিস্তা নদীর ভাঙনের শিকার ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান বলেন, ‘আমাদের স্কুল গেল, আশপাশের গ্রামও নদীতে চলে গেছে। আমাদের স্কুলের শিশুরা কে কোথায় চলে গেছে বলতে পারছি না। তবে এখনও চার টিনের ছাপড়ার নিচে দুই শ্রেণির চারজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ক্লাস চলছে।’
নদীর ভয়াবহ ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড গতকাল থেকে জিও ব্যাগ ফেলছে। তবে এ উদ্যোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সাবেক ইউপি সদস্য রাজা মিয়া বলেন, ‘নদীতে সব চলে গেল, এখন বস্তা ফেলে রক্ষার কাজ শুরু করলেন।’
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা চরবান্ধব ভবন নির্মাণ এবং বিদ্যালয়ের জন্য নিরাপদ জায়গা নির্ধারণের দাবি জানান।
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষণ কুমার দাশ বলেন, চলতি বছরের বন্যায় চরাঞ্চলের আটটি স্কুল নদীগর্ভে চলে গেছে। আরও ছয়টি বিদ্যালয় ঝুঁকিতে রয়েছে।
১১ দিন আগে
বিষমুক্ত সবজি চাষ: ফলনে খুশি হলেও দামে মলিন কৃষক
জমির আলের চারপাশে নীল জালের বেড়া। ভেতরে বাঁশ ও জালের মাচা। মাচার ওপরে সবুজ লতা, আর নিচে থোকায় থোকায় ঝুলছে তরতাজা করলা। কিন্তু এই করলায় নেই কোনো কীটনাশক বা রাসায়নিক বিষ।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় প্রথমবারের মতো উত্তম কৃষি চর্চা বা গ্যাপ পদ্ধতিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ করে সাড়া ফেলেছেন দুই কৃষক। তবে ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম কম পাওয়ায় হাসি নেই তাদের মুখে।
উত্তম কৃষি চর্চা বা গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেসস হলো এমন কিছু পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক কৃষি পদ্ধতি, যার মূল লক্ষ্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা। পরিবেশের ভারসাম্য ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করা। কৃষকদের কাজের নিরাপদ পরিবেশ ও সুঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি করা।
এর একটি পদ্ধতি ‘মালচিং’। এটি এমন একটি কৃষি পদ্ধতি যার মাধ্যমে গাছের গোড়ায় বা মাটির উপরিভাগে খড়, পাতা, কচুরিপানা বা প্লাস্টিকের শিট দিয়ে একটি সুরক্ষা স্তর বা ঢাকনা তৈরি করা হয়, যা আর্দ্রতা রক্ষা, আগাছা দমন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মাটির ক্ষয়রোধ ও পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করে।
উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ধলনগর গ্রামের জমারত আলীর ছেলে দবির উদ্দিন ফারাজী ও মৃত তোয়াজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল বারী তিন বিঘা জমিতে আলিসা জাতের করলা চাষ করেছেন। গত ১০ দিনে তারা ২ হাজার ২০০ কেজি করলা বিক্রি করেছেন। স্থানীয় বাজারে পাইকারি দর ছিল কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৫৫ টাকা। এতে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় হয়েছে তাদের।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দেড় মাসে আরও ৪ হাজার কেজির বেশি করলা বিক্রির আশা করছেন তারা, যার বাজার মূল্য প্রায় আড়াই লক্ষাধিক টাকা।
কিন্তু তাদের অভিযোগ, বাজারে বিষমুক্ত এবং বিষযুক্ত সবজির আলাদা বাজার বা হাট নেই। ফলে সমান দামে বিক্রি হওয়ায় লাভবান হতে পারছেন না তারা। তাদের ভাষ্য, গতবছর এই সময়ে প্রতি কেজি করলা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে বর্তমান দাম তার অর্ধেক। গতবারের মতো দাম থাকলে কয়েক লাখ টাকা লাভবান হতেন তারা।
বাড়তি খরচ, কিন্তু দাম কম
শহর থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার দুরের ধলনগর মাঠে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো জমি নীল রঙের জাল দিয়ে ঘেরা। পোকামাকড় দমনে ব্যবহার করা হয়েছে ফেরোমন ফাঁদ ও জৈব বালাইনাশক। মাটিতে দেওয়া হয়েছে জৈব সার। একজন খেতের পরিচর্যা করছেন, অপরজন তুলছেন করলা।
এ সময় উদ্যোক্তা দবির উদ্দিন বলেন, ‘গ্যাপ পদ্ধতিতে চাষ করতে খরচ বেশি। জাল, ফাঁদ, জৈব সার—সবই কিনতে হয়। ফলন ভালো এবং সবজিও স্বাস্থ্যকর। তবে ক্রেতারা এখনও বিষমুক্ত সবজির দাম দিতে চান না।’
১২ দিন আগে
দেড়শ কিলোমিটার দূরে ডুবুরি, কুষ্টিয়ায় পানিতে ডুবে মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে
নদীতে কেউ নিখোঁজ হয়েছেন। ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছেছে ফায়ার সার্ভিসের দল। কিন্তু শুরু করা যাচ্ছে না উদ্ধার অভিযান। কারণ, কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসে নেই প্রশিক্ষিত ডুবুরি। প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরত্বের খুলনা থেকে ডুবুরি দল আসার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যাতে সময় লেগে যায় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা।
নদীবেষ্টিত কুষ্টিয়ায় এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। পদ্মা, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, হিসনা, কালীগঙ্গা, কুমার ও সাগরখালীসহ জেলার ওপর দিয়ে ছোটবড় মিলিয়ে অন্তত আটটি নদ-নদী বয়ে গেছে। এসব নদীর সঙ্গে জেলার মানুষের জীবন-জীবিকা ও চলাচল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অথচ নদীতে দুর্ঘটনা বা কেউ নিখোঁজ হলে উদ্ধারের জন্য কুষ্টিয়াকে নির্ভর করতে হয় খুলনার ওপর।
এর ফলে দুর্ঘটনার পরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েক ঘণ্টা কেটে যায় শুধু ডুবুরি দলের অপেক্ষায়। এতে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা যেমন কমে, তেমনি মরদেহ উদ্ধারের ক্ষেত্রেও দীর্ঘ সময় লেগে যায়। কোনো কোনো ঘটনায় স্বজনদের এক থেকে দুই দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোও সেই চিত্রই সামনে এনেছে। শুধু আগস্ট মাসেই কুষ্টিয়ার বিভিন্ন নদীতে ডুবে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ আগস্ট দৌলতপুর উপজেলার ভাগজোত ঘাটে পদ্মা নদীতে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় ১২ বছরের মাদ্রাসাছাত্র মোস্তাকিম হোসেন। স্থানীয়রা আরেক শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করলেও মোস্তাকিমকে সেদিন খুঁজে পাওয়া যায়নি। কুষ্টিয়ায় নিজস্ব ডুবুরি দল না থাকায় ব্যাহত হয় উদ্ধার অভিযান। পরে খুলনা থেকে ডুবুরি দল পৌঁছালে পরদিন সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনার আগে ৫ আগস্ট দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নে পদ্মা নদীর পাড় ধসে নদীতে পড়ে যায় পাঁচ বছরের নূরী খাতুন ও আট বছরের জামিলা খাতুন। স্থানীয়রা জামিলাকে জীবিত উদ্ধার করলেও নূরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয় পরদিন মিরপুর উপজেলার পদ্মা নদী থেকে।
১৪ আগস্ট কুমারখালীর শিলাইদহ পদ্মা নদীর ঘাটে নিখোঁজ হয় আট বছরের শিশু আলিফ হোসেন। একই দিন সন্ধ্যায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আর ২৪ আগস্ট কুমারখালী পৌরসভার এম এন বাঁধ এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে গড়াই নদীতে ডুবে মারা যান জেলে পরিমল মণ্ডল (৩৮)।
শুধু দুর্ঘটনার সংখ্যা নয়, এসব ঘটনায় উদ্ধার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে। জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছালেও প্রশিক্ষিত ডুবুরি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে পানির নিচে উদ্ধার অভিযান চালাতে পারেন না। স্থানীয়রা নৌকা, জাল কিংবা দেশীয় উপকরণ নিয়ে চেষ্টা করেন। কিন্তু এসব ব্যবস্থা প্রশিক্ষিত ডুবুরি ও আধুনিক ডাইভিং সরঞ্জামের বিকল্প নয়।
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসেনের বক্তব্যে সমস্যাটির প্রশাসনিক দিকটিও উঠে এসেছে। তিনি বলেন, কুষ্টিয়া নদীবেষ্টিত জেলা হওয়ায় এখানে নৌ-দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেশি। জেলা পর্যায়ে আলাদা ডুবুরি দল না থাকায় বিভাগীয় শহর খুলনার ওপর নির্ভর করতে হয়। খবর পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে খুলনা থেকে ডুবুরি দলকে কুষ্টিয়ায় পৌঁছাতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে।
ওয়াদুদ হোসেন বলেন, প্রতিটি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে খুলনার ডুবুরি দলের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসকে জনগণের তোপের মুখে পড়তে হয়। জেলার ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ডুবুরি দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, সমস্যাটি যে নতুন নয়, তা ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব বক্তব্যেই স্পষ্ট। ঝুঁকিপূর্ণ নদীপথ, নিয়মিত দুর্ঘটনা এবং দীর্ঘদিনের দাবির পরও কুষ্টিয়ায় কেন স্থায়ী ডুবুরি দল গঠন হয়নি—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সামাজিক সংগঠন ‘মানুষ মানুষের জন্য’-এর প্রতিষ্ঠাতা সাহাব উদ্দীন মিলন বলেন, ‘যে জেলায় পদ্মা ও গড়াইয়ের মতো প্রমত্তা নদী রয়েছে, সেখানে স্থায়ী ডুবুরি দল না থাকা হতাশাজনক। অবিলম্বে কুষ্টিয়া জেলায় স্থায়ী ডুবুরি দল নিয়োগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর ফায়ার স্টেশনে প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম নিশ্চিত করা দরকার।’
পদ্মাপাড়ের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘নদীতে কেউ নিখোঁজ হলে স্বজনেরা একদিকে প্রিয়জনকে হারানোর শঙ্কায় থাকেন, অন্যদিকে কখন উদ্ধারকারী দল আসবে, সেই অপেক্ষাও করতে হয়। স্থানীয়রা নৌকা, জাল ও দেশীয় সরঞ্জাম নিয়ে চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রশিক্ষিত ডুবুরি ও আধুনিক সরঞ্জামের বিকল্প তারা হতে পারেন না।’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মোমিন ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধারের সুযোগ থাকে। কিন্তু দূরের জেলা থেকে ডুবুরি দলের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে সেই সম্ভাবনা অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়।’
মোস্তাকিমের মা শিউলি খাতুনের আহাজারিতেও সেই অপেক্ষার অসহায়তা ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, ‘আমার ছাওয়াল ছুটির দিন বন্ধুগোরে সাথে নদীর পাড়ে খেলতে যায়ে ডুবে গেল। এখনও ছাওয়ালটার খোঁজ পালাম না। খুলনা থেকে লোক আসপে, তারপরে উদ্ধার হবে—এই অপেক্ষা করতি হচ্ছে।’
কুষ্টিয়ার মতো নদীবেষ্টিত একটি জেলায় দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযানের প্রথম কয়েক ঘণ্টাই যেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে দেড়শ কিলোমিটার দূর থেকে ডুবুরি দলের আসার ওপর নির্ভরতা কতটা কার্যকর—এ প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। আর ততদিন নদীতে নিখোঁজ হওয়ার প্রতিটি ঘটনায় স্বজনদের অপেক্ষার সময়টিই হয়ে থাকছে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।
১৬ দিন আগে
পদ্মাপাড়ে অবৈধ ব্যাটারি রিসাইক্লিং কারখানা, হুমকিতে কৃষিজমি-পরিবেশ
পদ্মাপাড়ে দিনের বেলায় সুনসান নীরবতা। তারই মাঝে চোখে পড়ে সবুজ রঙের ত্রিপল দিয়ে ঘেরা একটি পরিত্যক্ত জায়গা। তবে রাতের গভীর ওই ত্রিপলের আশপাশের চিত্র পুরোপুরি পাল্টে যায়। তখন সেখানে উন্মুক্তভাবে ভাঙা হয় শত শত পুরাতন ব্যাটারি। তাতে আবার কয়লা ও কাঠের আগুন জ্বালিয়ে বের করা হয় বিষাক্ত সিসা, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
পদ্মা নদীর পাড়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চরসাদিপুর ইউনিয়নের সাদিপুর নৌকাঘাট-সংলগ্ন দেলোয়ার হোসেনের ইটভাটা এলাকায় প্রতিদিন বিকেল ও মধ্যরাতে এই বিপরীত দৃশ্যের দেখা মিলেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক জানান, পাবনার মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তি কারখানাটি পরিচালনা করছেন। প্রায় দেড় মাস ধরে সেখানে ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের কাজ চলছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অপরিকল্পিত ও অনিরাপদভাবে পরিচালিত কারখানাটিতে পুরাতন ব্যাটারি ভেঙে ও পুড়িয়ে সিসা বের করা হচ্ছে। এতে সিসাযুক্ত ধোঁয়া, দূষিত ধূলিকণা ও অ্যাসিডের মতো ভয়ানক রাসায়নিক পদার্থ মাটি, পানি ও বাতাসে মিশে চারপাশ দূষিত করছে। প্রায় দুই মাস ধরে প্রকাশ্যে এমন কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তাদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে নদীপাড়ের শত শত বিঘা কৃষিজমি ও বিভিন্ন ধরনের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ বিষয়ে জানতে ইটভাটার মালিক দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, পাবনার মনির স্থানীয় প্রভাবশালীদের ‘ম্যানেজ’ করে অবৈধভাবে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা বের করছেন। এ জন্য তিনি মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন দেলোয়ার।
তিনি আরও বলেন, ‘এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে; ফসল নষ্ট হচ্ছে। বারবার নিষেধ করার পরও এসব কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।’ এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অবৈধভাবে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা বের করার কথা স্বীকার করেছেন মনির হোসেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সবাইকে ম্যানেজ করেই দেড় মাস ধরে কারখানা চলছে।’ তবে বাতাসের কারণে অধিকাংশ দিনই কারখানা বন্ধ রাখতে হয় বলে তিনি দাবি করেন। ব্যবসায় লাভ হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, দিনের বেলায় সেখানে কোনো কাজ হয় না। রাত সাড়ে ১১টার পর ট্রাকে করে পুরাতন ব্যাটারি আনা হয়। রাত ১২টার দিকে জ্বালানো হয় আগুন।
তার অভিযোগ, চরসাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান টিক্কা, বিএনপির কর্মী জালাল ও হযরতের ছত্রচ্ছায়ায় অবৈধ কারখানাটি চলছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদীপাড়ের কলা, সবজিসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।
তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান টিক্কা বলেন, ‘কারা কী করছে জানিনে। আমি এসবে নাই। আপনারা মনিরের সাথে মিলতাল করে নেন।’
অবৈধ ব্যাটারি কারখানার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত নন বলে দাবি করেছেন চরসাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম আজম। তিনি বলেন, ‘দিন পনেরো আগে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে কারখানার লোকদের দৌড়ানি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে চলে কি না, তা জানা নেই।’
কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (জ্যেষ্ঠ রসায়নবিদ) হাবিবুল বাসার বলেন, ব্যাটারির ভেতরে সালফিউরিক অ্যাসিড থাকে। উন্মুক্তভাবে ব্যাটারি ভেঙে সিসা বের করার ফলে বাতাসে সিসা ও লেডের মাত্রা বেড়ে যায় যা পরিবেশ ও মাটির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
এ বিষয়ে দ্রুত অবৈধ ব্যাটারি কারখানায় অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন কুমারখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার।
১৮ দিন আগে
মতলবে দেড় মাসে ২৫ ট্রান্সফরমার চুরি, ভোগান্তিতে লক্ষাধিক গ্রাহক
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ধারাবাহিকভাবে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় উদ্বেগ ও জনভোগান্তি বেড়েছে। গত জুলাই থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত দেড় মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
চুরি যাওয়া এসব ট্রান্সফরমারের মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। এগুলো নষ্ট বা চুরি হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং বিপাকে পড়ছেন উপজেলার প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার গ্রাহক।
পল্লী বিদ্যুৎ মতলব উত্তর জোনাল অফিসের ডিজিএম এমডি ওয়াহিদুজ্জামান ইউএনবিকে বলেন, ‘গত জুলাই মাস থেকে চলতি আগস্ট মাসের ২৪ তারিখ পর্যন্ত মতলব উত্তরের ছেংগারচর, সুজাতপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এসব ট্রান্সফরমারের মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা।’
তিনি বলেন, ‘আসলে গত জানুয়ারি মাস থেকেই মতলব উত্তরে দুই-একটি করে ট্রান্সফরমার চুরি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পুরো চোরচক্র শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।’
এদিকে, ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় চোরচক্র শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গেল শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার বাগানবাড়ী ইউনিয়নের নবীপুর বালুঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পিকআপভ্যানসহ ট্রান্সফরমারের ভেতরে ব্যবহৃত তামার তার ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে পিকআপ ও মালামাল জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় আনোয়ার হোসেন ওরফে ‘টানা আনোয়ার’ (৪২) নামে নিশ্চিন্তপুর এলাকার এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘এলাকায় ধারাবাহিক ট্রান্সফরমার চুরি বন্ধ ও চোরচক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কিছুদিন আগে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়।’
এসআই জীবন চৌধুরী ও এএসআই রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত ওই টিমের অভিযানে প্রথমে আনোয়ারকে আটক করা হয় জানিয়ে ওসি বলেন, পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, আনোয়ার ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে জড়িত অথবা চুরি করা মালামাল তার কাছে বিক্রি করা হতে পারে।
পরে চুরি করা মালামাল একটি পিকআপে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার তথ্য পায় পুলিশ। স্থানীয় সোর্স, পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় পিকআপটির অবস্থান শনাক্ত করে সেটি জব্দ করা হয়।
ওসি বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে ট্রান্সফরমারের ভেতরে কয়েল তৈরিতে ব্যবহৃত তামার তারসহ বিভিন্ন মালামাল পাওয়া যায়। পরে কর্মকর্তারা এসব মালামাল পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারের অংশ হিসেবে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করেছে জানিয়ে কামরুল হাসান বলেন, ‘চোরচক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
আটক আনোয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার চাঁদপুর আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানান ওসি।
পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমারগুলো প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। একই সঙ্গে চুরি প্রতিরোধে ব্যাপক মাইকিং, প্রচার-প্রচারণা এবং স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ কাজে পুলিশও সহযোগিতা করছে।
তিনি বলেন, ‘ট্রান্সফরমার ও বিদ্যুৎ সরঞ্জাম রাষ্ট্রীয় সম্পদ, যার মালিক জনগণ।’
মতলব উত্তর উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুতের বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। উপজেলায় ট্রান্সফরমার রয়েছে ৪ হাজার ৬০০টির বেশি।
ধারাবাহিক চুরি বন্ধে পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুতের অভিযান আরও জোরদার এবং চক্রের হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ওসি কামরুল হাসান বলেন, ট্রান্সফরমার চুরি রোধে থানার পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
১৯ দিন আগে
লালমনিরহাটে কৃষকের ‘সোনালি আঁশের’ স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্ন
লালমনিরহাটে চলতি মৌসুমে পাটের আশানুরূপ ফলন না পাওয়ায় হতাশ কৃষকেরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার শঙ্কা। ফলন ও দাম—দুই দিক থেকেই ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন জেলার পাটচাষিরা।
কৃষকদের আশঙ্কা, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাটের দাম না পেলে গত কয়েক বছরের মতো এবারও লোকসান গুনতে হবে। এতে আগামী মৌসুমে পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমে যেতে পারে।
জেলার আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও সদর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও গ্রামে এবার ব্যাপকভাবে পাটের আবাদ হয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা, ধরলা ও সানিয়াজান নদীর চরাঞ্চলের অনাবাদি ও বন্যাপ্রবণ জমিতে পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে। ধানসহ অন্যান্য ফসল ভালো হয় না—এমন জমিতেও এবার পাট চাষ করেছেন কৃষকেরা।
তবে আশানুরূপ ফলন না হওয়ায় এখন ভালো দাম পাওয়া নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা পাট কাটার পর তা ডোবা, নালা, পুকুর ও খাল-বিলে পানিতে স্তূপ করে জাগ দিচ্ছেন। সাধারণত ২০ থেকে ২৫ দিন পর পাট পচে গেলে সেখান থেকে আঁশ ছাড়িয়ে রোদে শুকানো হয়। অনেক কৃষকের পাট এখনও পুরোপুরি পচেনি; তবে কয়েক দিনের মধ্যে আঁশ ছাড়ানোর কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
২০ দিন আগে
ফেলে দেওয়া মাছের আঁশেই বাড়তি টাকা গুনছে নড়াইলের জেলেরা
একসময় মাছ কাটার পর আবর্জনার সঙ্গে ফেলে দেওয়া হতো আঁশ। সেই আঁশই এখন নড়াইলের জেলে পরিবারের কাছে হয়ে উঠেছে বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস। মাছ বিক্রির পাশাপাশি আঁশ সংগ্রহ, পরিষ্কার, শুকানো ও বিক্রি করে সংসারের খরচ মেটাচ্ছেন অনেক পরিবারের সদস্য। এতে বাড়ছে পারিবারিক আয়, পাশাপাশি মাছের আঁশ বর্জ্য হিসেবে ফেলে না দেওয়ায় কমছে পরিবেশদূষণও।
নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের পংকবিলা জেলেপাড়ায় সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির উঠান ও চিত্রা নদীর পাড়ের খোলা জায়গায় রোদে শুকানো হচ্ছে ছোটবড় বিভিন্ন মাছের আঁশ। কোথাও বাঁশের চাটাই, কোথাও পলিথিনের ওপর, আবার কোথাও পরিষ্কার মাটিতে ছড়িয়ে রাখা হয়েছে সেগুলো। পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যদের কেউ আঁশ পরিষ্কার করছেন, কেউ শুকাতে দিচ্ছেন, আবার কেউ শুকানো আঁশ উল্টে-পাল্টে দিচ্ছেন।
পংকবিলা জেলেপাড়ায় প্রায় ৯০ থেকে ১০০টি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৫০টি পরিবার গত পাঁচ থেকে ১৬ বছর ধরে মাছের আঁশ সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত। মাছের ব্যবসার পাশাপাশি আঁশ বিক্রি এখন এসব পরিবারের বাড়তি আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, মাছের আঁশ বর্তমানে বিভিন্ন শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে ওষুধ ও পোলট্রি ফিড তৈরিতে এর চাহিদা রয়েছে। দেশীয় চাহিদার পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত এসব মাছের আঁশ বিদেশের বাজারেও পাঠানো হচ্ছে। জাপান, চীনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এর রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
পংকবিলা গ্রামের জেলে ও মাছ ব্যবসায়ী টিকান্তু সরকার বলেন, ‘আগে মাছ কাটার পর আঁশ ফেলে দেওয়া হতো। এখন আমরা সেগুলো আলাদা করে সংগ্রহ করি। বাড়িতে এনে পরিষ্কার করে কয়েক দিন রোদে শুকিয়ে রাখি। পরে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করি। এতে মাছ বিক্রির পাশাপাশি বাড়তি কিছু আয় হয়।’
অপর জেলে ও মাছ ব্যবসায়ী সুপল বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে প্রতি কেজি মাছের আঁশ ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের আঁশ হলে কেজিপ্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। তিন-চার মাস পরপর যশোর, নওয়াপাড়া ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এখানে এসে আঁশ কিনে নিয়ে যান।
পংকবিলা এলাকার বাসিন্দা দয়াল শিল শুভ বলেন, এলাকার অনেক জেলে পরিবার মাছ বিক্রির পাশাপাশি আঁশ সংগ্রহ করে। পরিবারের নারী-পুরুষ সবাই এ কাজে যুক্ত থাকেন। আঁশ বিক্রির টাকা দিয়ে তারা সংসারের খরচ মেটানোর পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ব্যয়ও চালাচ্ছেন।
জেলে পরিবারের কয়েকজন গৃহিনী জানান, আগে আঁশগুলো আবর্জনার সঙ্গে ফেলে দেওয়া হতো। এখন সেগুলো আলাদা করে পরিষ্কার, শুকিয়ে জমিয়ে রাখা হয়। পরে বিক্রি করে পাওয়া টাকা সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচে কাজে লাগে। এতে পরিবারের আয় বাড়ার পাশাপাশি নারীরাও সরাসরি আয়মূলক কাজে যুক্ত হতে পারছেন।
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, মাছের জাত ও আকার অনুযায়ী আঁশের চাহিদা ও দাম ভিন্ন হয়। বড় আকারের রুই, কাতলা, গ্রাস কার্প ও ব্ল্যাক কার্পের আঁশের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। বড় মাছের আঁশ আকারে বড় হওয়ায় তা সংগ্রহ, পরিষ্কার ও শুকানোও সহজ।
নড়াইল সদর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান বলেন, মাছের আঁশ এখন আর বর্জ্য নয়, এটি মূল্যবান সম্পদ। রূপগঞ্জ মাছবাজারে পংকবিলার জেলে সম্প্রদায় মাছ রান্নার উপযোগী বা ‘রেডি টু কুক’ করার সময় আঁশ সংগ্রহ করেন। এসব আঁশ প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে এবং বিভিন্ন শিল্পে এর চাহিদা বাড়ছে।
তিনি বলেন, জেলেদের এ বিষয়ে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে, যাতে তারা এ খাতে আরও সম্পৃক্ত হতে পারেন এবং এটিকে টেকসই আয়ের উৎসে পরিণত করতে পারেন।
২০ দিন আগে